ওমরান ভালো, সুস্থ আছে (ভিডিও)

SYRIA11471519997সিরিয়ায় বিমান হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া পাঁচ বছর বয়সী শিশু ওমরান দাকনিশ সুস্থ ও ভালো আছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, চিকিৎসার পর ওমরান এখন সুস্থ ও ভালো আছে। খবর টাইমসের।

সিরিয়া থেকে ইউরোপে যাবার চেষ্টার সময় সমুদ্রে ডুবে মারা যায় আইলান কুর্দি। তুরস্কের তীরে তার পড়ে থাকার ছবিটি সারা বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছিল। এবার ওমরান দাকনিশকে উদ্ধারের ভিডিও ও ছবি বুধবার ছড়িয়ে পড়লে তা ফের সারা বিশ্বকে হতবাক করে দেয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তাক্ত, সারা গায়ে ধূলি মাখা ভীত শিশুটি একটি অ্যাম্বুলেন্সের সিটে বসে রয়েছে, একটু পরেই সে নিজের মুখে হাত বুলিয়ে রক্ত দেখতে পেয়ে চমকে ওঠে।

সম্প্রতি সিরিয়ার আলেপ্পোয় বিমান হামলার পর একটি বিধ্বস্ত ভবন থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তার ভিডিও আর ছবি প্রকাশ করে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা।

ওমরান দাকনিশ মাথায় আঘাত পেয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, চিকিৎসার পর ওমরান এখন সুস্থ ও ভালো আছে।

প্রথমে তার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে তেমন তথ্য জানা যায়নি। তবে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ওই হামলার ঘটনায় ওমরানের পরিবারের সদস্যরাও বেঁচে রয়েছেন এবং তারা গুরুতর আহত।

ওমরান দাকনিশের চিকিৎসাকারী নার্স এবিসি নিউজকে বলেছেন, ‘চিকিৎসার সময় ছোট্ট শিশুটি একদমই কান্নাকাটি করেনি। সে আমার কাছে তার মা-বাবা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পরে ওমরানের আহত মা ও বাবাকে তার কাছে আনা হয়। মা ও বাবাকে দেখে সে কান্না শুরু করে।’

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় ‘সাদা হেলমেট’ নামে পরিচিত সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্স মুভমেন্টের ফটোগ্রাফার খালিদ খতিব টাইমকে জানান, ‘ওমরান এবং তার পরিবারের সদস্যরা ভালো আছে। তার পরিবারের সবাই বেঁচে আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওমরানের আঘাত ততটা গুরুতর নয়। তবে তার মুখমণ্ডলে বেশি আঘাত লেগেছে। কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালে থাকার পরই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।’

আলেপ্পোতে কয়েক সপ্তাহ ধরেই সিরিয়ান বিদ্রোহী আর সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই চলছে। সহিংসতায় কয়েকশ’ মানুষ নিহত হয়েছে।

বিদ্রোহীদের একটি মিডিয়া সেন্টার জানিয়েছে, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত আলেপ্পোর কোটের্জি জেলার একটি ভবনে রাশিয়ান বিমান হামলার পর ওই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। সে সময় এই ছবিটি তোলা হয়। ওই হামলায় তিনজন নিহত আর ১২ জন আহত হয়।

হামলার পর ভবনে উদ্ধার অভিযানের সময় ফটোসাংবাদিক মাহমুদ রাসলান ওমরান দাকনিশের ভিডিওটি ধারণ করেন। পরে সেটি আলেপ্পোর মিডিয়াতে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বিধ্বস্ত ভবন থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে আনা হচ্ছে। এরপর একটি অ্যাম্বুলেন্সের আসনে রক্ত আর ধূলোমাখা শিশুটিকে বসিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এরপর সে খানিকক্ষণ শান্ত হয়ে বসে থাকে। তারপর নিজের মুখে হাত বুলিয়ে, হাতে রক্ত দেখতে পেয়ে চমকে যায়। এরপর সেই রক্ত সে অ্যাম্বুলেন্সের সিটে মুছে ফেলার চেষ্টা করে।

বিরোধী সিরিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিলের একজন সদস্য বলছেন, এই ছবিটি প্রমাণ করছে, সিরিয়ায় কী ভয়াবহতা চলছে।

‘সাদা হেলমেট’ বাহিনীর ফটোগ্রাফার খালিদ খতিব জানান, তিন বছর ধরে সিরিয়ার বিপদসংকুল পরিবেশে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাদা হেলমেট। ইতিমধ্যে সংগঠনটির সদস্যরা ৬০ হাজার মানুষের জীবনকে রক্ষা করেছে।

আলজাজিরা প্রতিবেদন করার পর সংগঠনটি নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিল।

খালিদ খতিব বলেন, ‘এখানে ওমরানের মতো ঘটনা নিত্যদিনের। আমি অসংখ্য শিশুর এমন রক্তমাখা ছবি তুলেছি, যা আমার জন্য খুবই কষ্টকর।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওমরান দাকনিশের ছবি দেখে বিশ্বের যে সব মানুষ মায়ার বন্যা ছড়াচ্ছেন, আমি তাদের ঘৃণা করি। আমি যত শিশুর কান্না, আহত ও নিহত হওয়া দেখি, ততই ঘৃণা বেড়ে যায়।’

দ্য সিরিয়ান অবজাভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্যে, ২০১০ সাল থেকে সিরিয়ায় চলা সংঘর্ষে ১৪ হাজারের বেশি শিশু নিহত হয়েছে।

https://youtu.be/0ieDznqz4hQ

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *