একটি শব্দের কারণে আটকে গিয়েছিল দিলীপ কুমারের সিনেমা, কিন্তু কেন?
বিনোদন ডেস্ক
ভারতীয় সিনেমায় সেন্সরশিপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা করতে গিয়ে পুরোনো এক ঘটনা সামনে এনেছেন পরিচালক তিগমাংশু ধুলিয়া। ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া দিলীপ কুমারের জনপ্রিয় সিনেমা ‘গঙ্গা যমুনা’-কে ঘিরে সেন্সর বোর্ডের আপত্তির কথা স্মরণ করেছেন তিনি। তার দাবি, সিনেমার একটি সংলাপ নিয়ে আপত্তি তুলেছিল সেন্সর বোর্ড। কারণ, সংলাপটি বলেছিলেন মুসলিম অভিনেতা দিলীপ কুমার।
তিগমাংশুর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘গঙ্গা যমুনা’ সিনেমার একটি দৃশ্যে মৃত্যুর সময় দিলীপ কুমারের চরিত্র ‘হে রাম’ বলেন। কিন্তু এই সংলাপ নিয়েই আপত্তি তোলে সেন্সর বোর্ড। সম্প্রতি দ্য ওয়্যারের ‘স্টেট অব মিডিয়া অ্যান্ড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি’ অনুষ্ঠানে তিগমাংশু বলেন, সেন্সর বোর্ডের যুক্তি ছিল দিলীপ কুমার মুসলিম, তাই তিনি কীভাবে ‘হে রাম’ বলবেন?
তবে তিগমাংশুর পাল্টা যুক্তি ছিল, অভিনেতার ধর্ম নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো তিনি সিনেমায় কোন চরিত্রে অভিনয় করছেন। দিলীপ কুমারের চরিত্রের নাম ছিল গঙ্গা এবং চরিত্রটি একজন হিন্দু। তাই চরিত্রটির মুখে ‘হে রাম’ বলা স্বাভাবিক বলেই দাবি করেন তিনি।
তিগমাংশু জানান, সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা শেষ পর্যন্ত ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর কাছে পৌঁছায়। তার দাবি, নেহরু সিনেমাটি দেখার পর এতে আপত্তিকর কিছু খুঁজে পাননি।
এরপরও নাকি আরেকটি সমস্যা দেখা দেয়। তিগমাংশুর ভাষ্য, দিলীপ কুমারের সিনেমাটি দ্রুত ছাড়পত্র পেলে অন্যরা মনে করতে পারতেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় থাকার কারণেই সিনেমাটি ছাড়পত্র পেয়েছে। তাই সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকা অন্য সিনেমাগুলোকেও ছাড়পত্র দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
উল্লেখ্য, দিলীপ কুমারের আসল নাম ছিল মুহাম্মদ ইউসুফ খান। অভিনয়জীবনের শুরুতেই তিনি ‘দিলীপ কুমার’ নামটি গ্রহণ করেন। অভিনেতা ট্রাজেডি কিং নামে পরিচিত ছিলেন। ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একাধিক বক্স অফিস হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস










