বিপিএল স্থগিত করে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়াল বিসিবি
ক্রীড়া ডেস্ক
বিপিএল স্থগিত হওয়ায় দেশের ক্রিকেটারদের আয়ে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
এক লাফে ম্যাচ ফি বড় অঙ্ক বাড়ানো হলো। তবে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের দাবি, এটি শুধু বিপিএল না হওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার সাময়িক উদ্যোগ নয়; বরং ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আয় দীর্ঘমেয়াদে বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচ ফি বাড়ানোর ঘোষণা দেন তামিম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরুষদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ১ লাখ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে দেড় লাখ টাকা। গত এপ্রিলে তামিমের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ফি ১ লাখ টাকা করেছিল।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে যেখানে একজন ক্রিকেটার প্রতি ম্যাচে ৫০ হাজার টাকা পেতেন, এখন পাবেন ১ লাখ টাকা। আর জাতীয় ক্রিকেট লিগের টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ ফি ৪০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে করা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা।
বিপিএল স্থগিত হওয়ার কারণে ক্রিকেটারদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু ম্যাচ ফি বাড়িয়েই থামছে না বিসিবি। ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের।
নতুন একটি টুর্নামেন্ট চালুর পরিকল্পনা করছে বিসিবি, যেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের চার দিনের ও এক দিনের সংস্করণ এবং জাতীয় ক্রিকেট লিগের টি-টোয়েন্টি, এই তিন প্রতিযোগিতা এক ছাতার নিচে আসবে। তিনটি সংস্করণ অবশ্য ক্যালেন্ডারের ভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
তবে তিন প্রতিযোগিতার খেলোয়াড় ড্রাফট হবে একই সঙ্গে। একই নামের অধীনে প্রতিযোগিতাগুলোকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক কাঠামোয় পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের চার দিনের সংস্করণ আগের মতোই আলাদা থাকবে।
নারী ক্রিকেটেও ম্যাচ ফি বাড়ানোর বড় পরিকল্পনা করেছে বিসিবি। একই সঙ্গে নারী ঘরোয়া ক্রিকেটে তিন দিনের ম্যাচের পরিবর্তে চার দিনের ম্যাচ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চার দিনের ম্যাচে ম্যাচ ফি ২০ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে ৪০ হাজার টাকা হবে। এক দিনের ম্যাচে ১৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ৩০ হাজার টাকা। আর টি-টোয়েন্টিতে ১০ হাজার টাকা থেকে ম্যাচ ফি বাড়িয়ে করা হবে ২০ হাজার টাকা।
ম্যাচ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন তামিম, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ, এখন তারা প্রায় ১০০ শতাংশ বেশি পাচ্ছে। ফলে ঢাকা লিগে কিংবা এবার বিপিএল না খেলায় তাদের যে আর্থিক প্রভাব পড়েছে…আমি চাইনি শুধু এক বছরের জন্য সেটির ক্ষতিপূরণ দিতে।’
তামিম আরো বলেন, ‘বোর্ডে যখন প্রস্তাবটি এসেছে, সবাই একমত হয়েছে যে আমরা যখন ম্যাচ ফি বাড়াব, তখন সেটা সব সময়ের জন্যই করব।’
অর্থাৎ, বিপিএল স্থগিত হওয়ার কারণে সাময়িকভাবে ক্রিকেটারদের হাতে অর্থ তুলে দেওয়ার বদলে ঘরোয়া ক্রিকেটের আয় কাঠামোতেই স্থায়ী পরিবর্তন আনতে চাইছে বিসিবি।
ম্যাচ ফি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত তাই দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য শুধু তাৎক্ষণিক স্বস্তিই নয়, ভবিষ্যতে নিয়মিত আয়ের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।








