377823

র‌্যাপার টুপাক শাকুর হত্যার ৩০ বছর পর মূল মাস্টারমাইন্ড দোষী সাব্যস্ত

বিনোদন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের র‍্যাপার টুপাক শাকুর হত্যার ঘটনায় সাবেক গ্যাং লিডার ‘ডুয়েন কেফে ডি ডেভিস দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে আলোচনায় থাকা এই অমীমাংসিত মামলায় এটিই প্রথম দোষী সাব্যস্তের ঘটনা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার অভিযোগে ডেভিসকে দোষী সাব্যস্ত করেন মার্কিন আদালত।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর লাস ভেগাসে চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি চালিয়ে র‍্যাপ সুপারস্টার টুপাককে হত্যা করা হয়। রায় ঘোষণার সময় কালো স্যুট পরা ৬৩ বছর বয়সী ডেভিস লাস ভেগাসের আদালতে নির্বিকার ছিলেন। পরে আপিল করবেন বলে জানান তিনি।

বিচার চলাকালে ২০০৮ সালে পুলিশের নেয়া একটি সাক্ষাৎকারের রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে ডেভিস বলেছিলেন, যে গাড়ি থেকে গুলি চালানো হয়েছিল, তিনি সেই গাড়িতে ছিলেন। তবে টুপাককে হত্যার গুলি তিনি নিজে চালাননি।

প্রসিকিউটররা যুক্তি দেন, সাউথ সাইড কম্পটন ক্রিপস স্ট্রিট গ্যাংয়ের সাবেক নেতা ডেভিস নিজে গুলি না চালালেও হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সেই অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন, যা তার ভাতিজা অরল্যান্ডো অ্যান্ডারসন ব্যবহার করেছিলেন।

অ্যান্ডারসন ২০০৮ সালে অন্য একটি গুলির ঘটনায় নিহত হন। তার আগে টুপাক হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তিনি। সোমবার রায় ঘোষণার সময় টুপাকের স্বজনেরা একে অপরের হাত ধরেছিলেন। তাদের কেউ কেউ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন।

মৃত্যুর সময় টুপাকের বয়স ছিল ২৫ বছর। ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে তিনি নিহত হন। র‍্যাপ সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে বিশ্বজুড়ে তার ৭ কোটি ৫০ লাখের বেশি রেকর্ড বিক্রি হয়েছে। প্রায় ৩০ বছর ধরে টুপাক হত্যাকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত অমীমাংসিত মামলা ছিল। এ নিয়ে অসংখ্য ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়ালেও এতদিন কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।

বিচার চলাকালে প্রসিকিউটররা বলেন, টুপাক ও তার দলের সঙ্গে অ্যান্ডারসনের লাস ভেগাসে কয়েক ঘণ্টা আগে মারামারির ঘটনায় প্রতিশোধ নিতে ডেভিস হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। টুপাক হত্যাকাণ্ড এমন এক সময়ে ঘটে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের র‍্যাপ সংগীতে পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল। একই সময়ে ব্লাডস ও ক্রিপস গ্যাংয়ের বিরোধেরও গভীর প্রভাব ছিল হিপ-হপ জগতে।

রায় ঘোষণার পর আদালতে টুপাকের পরিবারের সদস্যদের আবেগাপ্লুত দেখা যায়। তার বোন একজন প্রসিকিউটরকে জড়িয়ে ধরেন। অন্যরা কাছেই বসে কাঁদছিলেন। আদালতের বাইরে টুপাকের ভক্তদেরও কাঁদতে ও রায় শুনে উল্লাস করতে দেখা যায়। এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ছিল ডেভিসের নিজের বক্তব্য। তিনি বারবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন যে, যে সাদা ক্যাডিলাক থেকে প্রাণঘাতী গুলি চালানো হয়েছিল, তিনি সেই গাড়ির ভেতরে ছিলেন।

২০০৮ সালে আরেক র‍্যাপার নটোরিয়াস বিআইজি, যার প্রকৃত নাম ক্রিস্টোফার ওয়ালেস, হত্যার তদন্তসংক্রান্ত এক গোপন পুলিশ সাক্ষাৎকারে টুপাকের হত্যায় নিজের ভূমিকার কথা জানিয়েছিলেন ডেভিস। ২০১৯ সালের নিজের আত্মজীবনী ‘কম্পটন স্ট্রিট লিজেন্ড’-এও তিনি নিজের ভূমিকা নিয়ে আরও বিস্তারিত লিখেছিলেন।

তবে বইটি প্রকাশ এবং গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেয়ার কারণে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার করা একটি সুরক্ষামূলক চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। ওই চুক্তির আওতায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের হওয়াকে আটকানো হয়েছিল। পরে আদালত রায় দেয়, পুলিশে দেয়া তার সাক্ষাৎকার হত্যার বিচারে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে।

সমাপনী বক্তব্যে প্রসিকিউটর বিনু পালাল জুরিদের ডেভিসের নিজের কথাই বিশ্বাস করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে তথ্যচিত্র, আত্মজীবনী, পডকাস্ট ও পুলিশের সাক্ষাৎকারে ডেভিস টুপাক শাকুর হত্যার জন্য নিজেকে দায়ী বলে আসছেন। তিনি আরও বলেন, ‘গুলি চালানোর সময় যখন নির্দেশদাতা সামনের আসনে বসে থাকে, তখন তার দায় নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকে না।’

তবে পুরো বিচারজুড়ে ডেভিসের আইনজীবীরা জুরিদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, তার বক্তব্যগুলো ছিল বই বিক্রি ও অর্থ উপার্জনের জন্য বানানো গল্প, আত্মপ্রচার এবং অতিরঞ্জন। সমাপনী বক্তব্যে তার আইনজীবী মাইকেল স্যানফট তার মক্কেলকে এমন একজন মিথ্যাবাদী হিসেবে উপস্থাপন করেন, যিনি শুধু বই বিক্রি করার জন্য গল্প বানিয়েছেন।

তিনি জুরিদের বলেন, ‘কোনো প্রমাণ নেই।’ তবে সোমবার মামলাটি জুরিদের হাতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা ডেভিসকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত খালি হওয়ার ঠিক আগে ক্লার্ক কাউন্টি জেলা আদালতের বিচারক কার্লি কিয়ের্নি ডেভিসের সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন আগামী ১৩ অক্টোবর।

মামলার কিছু আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ পড়ে শোনানোর সময় হাত তুলে বিচারককে থামানোরও চেষ্টা করেন ডেভিস। তিনি বলেন, ‘আমি আমার জিনিসপত্র চাই।’ এ সময় নিজের ফোনসহ কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রীর কথা উল্লেখ করেন। এরপর তিনি বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে আপিল করতে চাই।’ বিচারক তাকে জানান, সাজা ঘোষণার পর তিনি আপিল করতে পারবেন।

ad

পাঠকের মতামত