377788

নিরাপদে আছি, দুশ্চিন্তা করার মতো কিছুই নেই : তাসরিফ

বিনোদন ডেস্ক
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে যখন বিভিন্ন এলাকায় বিপর্যস্ত পরিস্থিতি, তখন সেখান থেকে নিজের ও দলের নিরাপত্তা নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান। নেপালে আটকা পড়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন শিরোনামে যেন কেউ বিভ্রান্ত না হন, সে জন্য দীর্ঘ এক পোস্টে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন তিনি।

তাসরিফ জানান, নেপালে যে এলাকায় ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে তিনি ও তার দল ছিলেন না। তারা ঘান্দ্রুক নামের একটি পর্যটন গ্রামে আটকা পড়েছিলেন। সেখান থেকে ‘বিরেথানটি’ যাওয়ার পথে প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলের পানির তীব্র স্রোতে একাধিক জায়গায় রাস্তা ভেসে যায়। ফলে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছিল।

তাসরিফের কথায়, ‘নেপালে আমাদের ঘটনাটা একটু বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন, নাহলে অনেকেই বিভিন্ন শিরোনাম দেখে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। প্রথমত, নেপালে যে পাশে ফ্ল্যাশ ফ্লাডের দুর্ঘটনা ঘটেছে, আমরা সেই পাশে ছিলামই না। আমরা ঘান্দ্রুক নামের যে পর্যটন গ্রামে আটকা পড়েছিলাম, সেটা কোনো ফ্ল্যাশ ফ্লাডে নয়; বরং ঘান্দ্রুক থেকে “বিরেথানটি” যাওয়ার পথে, মানে আমাদের ফেরার পথে, তীব্র বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধস এবং পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতের তীব্রতায় আলাদা আলাদা চারটি জায়গায় অনেকখানি রাস্তা ভেসে এবং ছিটকে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে ছিল।’

তার ভাষ্যে, ‘হেঁটে ফিরতে চাইলে পথ অনেক লম্বা হবে এবং বৃষ্টি থাকলে নেপালের যে কোনো ট্রেইলই ভূমিধসের শঙ্কায় যে কোনো সময় অতি বিপজ্জনক হতে পারে, তাই গাইড আমাদের ছাড়ছিলেন না কোনোভাবেই। তাহলে কিভাবে ফিরলাম? আমরা অতিরিক্ত দুই দিন ওই গ্রামে থেকে অপেক্ষা করার পর যখন বুঝেছি যোগাযোগের সড়ক এত তাড়াতাড়ি ঠিক হবে না এবং সকাল থেকেই আবহাওয়া ভালো হতে শুরু করে, তৎক্ষণাৎ আমরা আমাদের গাইডকে সাথে নিয়ে সারাদিন ধরে হেঁটে হেঁটে ফিরেছি বিরেথানটি পর্যন্ত। তারপর গাড়িতে করে পোখরা চলে এসেছি। ব্যাস, এইটুকুই কাহিনী।’

তিনি আরও বলেন, ‘ও, টাকা নিয়েও একটা ব্যাপার ঘটেছিল, সেটা মিস করে গেছি। সহজভাবেই আমরা যতটুকু থাকার প্রস্তুতি নিয়ে গেছি, আমাদের সাথে সেই অনুপাতেই রুপি ছিল আর অতিরিক্ত দুই দিন থাকায় আমাদের সাথে থাকা নেপালি রুপি ফুরিয়ে আসছিল। গ্রাম এরিয়া হওয়াতে এখানে কোনো কার্ড পেমেন্ট সম্ভব ছিল না। তাই হেঁটে হলেও ফিরতেই হতো, তার আরেকটা কারণ আছে। একটা ব্যাপার মেনশন করতেই হবে, নেপালের এইসব পর্যটনের জায়গা যত সুন্দরই হোক না কেন, এখানের মানুষের থেকে আমাদের দেশের মানুষ আন্তরিকতার দিকে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবে আমার কাছে।’

‘আমাদের দেশের সাজেক কিংবা সেন্টমার্টিনে আমি বহুবার এমন শুনেছি যে পর্যটকরা আটকা পড়লে মালিকপক্ষ থাকা-খাওয়া ফ্রি করে দিয়েছে, কিন্তু এখানে এটা একদিন কেন, এক বেলাও কতটুকু সম্ভব হবে, তাতে আমার সন্দেহ রয়েছে।’

তিনি লিখেছেন,‘সত্যি বলতে ফেরার রাস্তায় লম্বা সময় ধরে হাঁটায় শারীরিক পরিশ্রম ছিল যতটুকু, তার চেয়েও শতগুণ বেশি সুন্দর ছিল রাস্তার দুই পাশের প্রকৃতি, পরিবেশ। তাই তেমন কোনো কষ্ট মনে হয়নি। যা যা জানানোর ছিল জানালাম এবং অনুরোধ করছি, কোনো শিরোনাম দেখেই বিভ্রান্ত হবেন না। আমরা যথেষ্ট নিরাপদে আছি এবং দুশ্চিন্তা করার মতো তেমন কিছুই নেই। ধন্যবাদ।’

ad

পাঠকের মতামত