360076

খালেদার জিয়ার বিদেশ যাওয়ার ‘উপায়’ জানালেন আইনমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক।। দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত ৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তিন বছর আগে কারাগারে যেতে হয় তাকে। দেশে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে বিএনপি চেয়ারপারসনকে ‘মানবিক বিবেচনায় শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার।

সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের লোকজন তাকে বিদেশে নিয়ে যেতে চেয়েছিল পরিবার। কিন্তু খালেদার মুক্তিতে বিদেশে না যাওয়ার শর্ত রয়েছে যা বদলানোর সুযোগ নেই। কিন্তু তারপরও দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দলের প্রধানের বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার ‘উপায়’ দেখছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আর তা হলো দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে এ উপায়ের কথা জানান আইনমন্ত্রী। বলেন, খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদন মঞ্জুর করে সরকার তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে মুক্তি দিয়েছে। সেখানে বিদেশে না যাওয়ার শর্ত রয়েছে। এখন তা বদলানোর সুযোগ নেই। কোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে মুক্তি দিতে হলে সেটা আইনের মাধ্যমেই করতে হবে।

আনিসুল হক বলেন, ‘একটা উপায় আছে, তারা মহামান্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমা চাইতে পারে বা ৪০১ ধারায় সরকারের কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। ক্ষমা চাইলে উনারা বিবেচনা করলে ক্ষমা করতে পারেন। আর সেই ক্ষমা চাইতে গেলে অবশ্যই দোষ স্বীকার করে চাইতে হবে।’

মুক্তির পর খালেদা তার গুলশানের বাড়ি ফিরোজায় অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে গত ১৪ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ২৭ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। এরপর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চেয়েছিল তার পরিবার। এদিকে, আজ বুধবার সংসদ অধিবেশনে নতুন অর্থবছরের বাজেট পাসের আলোচনায় বিএনপির এমপি হারুনুর রশীদ ও মোশাররফ হোসেন ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর দাবি তোলেন।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘উনার পরিবারের সদস্যরা দরখাস্ত করলেন। উনারা দরখাস্তে বলেছিলেন উনাকে বিদেশ নিয়ে যেতে হবে। তাদের আবেদনে আইনের ধারার কথা উল্লেখ ছিল না। ওই আবেদনকে আমরা ৪০১ হিসেবে ট্রিট করে দুটো শর্ত দিয়ে তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে মুক্তি দিয়েছি। শর্ত দুটি হচ্ছে তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং তিনি দেশে থেকে চিকিৎসা নেবেন। তারা এটা গ্রহণ করেছিলেন। গ্রহণ করে তারা বেগম জিয়াকে জেলখানা থেকে বাসায় নিয়ে যায়।’

আনিসুল হক আরও বলেন, বিএনপির নেতারা কথায় কথায় বিদেশ পাঠানোর কথা বলেন। একটি দরখাস্ত যখন নিষ্পত্তি হয়ে যায়, সেটা কী আবার পুর্নবিবেচনা করা যায়? উনারা তো দরখাস্ত করে শর্ত মেনে মুক্ত করে এনেছেন। তারপর এখন বলছেন বিদেশে যেতে হবে। আবার দরখাস্ত করলেন। এটা কী রকম কথা! ওই দরখাস্ত তো শেষ, সেটার ওপর তো আর কেউ কিছু করতে পারবে না। ৪০১ এর যে দরখাস্ত হিসেবে সেটা নিষ্পন্ন হয়ে গেছে। ওটা তো মঞ্জুর হয়েছে। আইনে ৬টি সাব-সেকশন আছে। এর মধ্যে কোথাও যদি দেখাতে পারেন আবার দরখাস্ত করতে পারবেন, আবার পুনর্বিবেচনা করতে পারবেন, তাহলে আমি আইন পেশায় থাকব না।’

এ সময় বিএনপি নেতাদের আইন পড়ে দেখার পরামর্শ দেন আনিসুল হক। তিনি আরও বলেন, ‘উনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তো চিকিৎসা পাননি কোথায়? উনারা এমন নজির দেখাতে পারবেন না যে আমরা বাধাগ্রস্ত করেছি। তাহলে চিকিৎসা পাননি এই কথা বলেন কেন? নিরর্থক পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি করলে তো হবে না।’ উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

 

ad

পাঠকের মতামত