359722

ডিভোর্সের পরও প্রাক্তন স্বামী বান্ধবীর ফোনে তাদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও পাঠাতেন, বললেন নদীর বোন

নিউজ ডেস্ক।। বান্ধবীকে ভিডিও কলে জানিয়ে আত্মহত্যা করা সেই তরুণী রুবিনা ইয়াসমিন নদী (২১) মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।তার একটি বিয়ে হয়েছিল। ডিভোর্স হয়ে গেলেও সেই স্বামী ফোনে তাদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও পাঠাতেন। এসবের কারণেই তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। সমকাল

বুধবার বিকেলে রাজধানীর শাজাহানপুরের গুলবাগ এলাকায় বান্ধবীকে ভিডিও কল দিয়ে জানিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন নদী। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলায়। রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

তার বাবা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রফিকুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে বরিশালের আগৈলঝারা থানায় কর্মরত। রুবিনা শাজাহানপুর থানার মালিবাগ এলাকার ৩৯১ নম্বর গুলবাগের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে বান্ধবীকে নিয়ে সাবলেট থাকতেন।

এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে নদী ছিলেন বড়। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করতেন তিনি।

নদীর রুমমেট মারিয়াম জানান, রুবিনা আমি (মারিয়ম) ডেফোডিল ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে পড়াশোনা করি, সেখানে একই বিভাগের সায়েম নামে এক শিক্ষার্থীর সাথে সম্পর্ক করে বিয়ে করেন ২০১৯ সালে সেপ্টেম্বর /অক্টোবরে। বিয়ের তিন মাসের মাথায় ছেলে চরিত্র গত কারনে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

খালাতো বোন শরিফা সুলতানা বলেন, ঐ ছেলে টা সাথে ছাড়াছাড়ির পরও বিভিন্ন সময় রুবিনার বান্ধবী মারিয়ামের ফোনে তাদের বিশেষ মুহুর্তের ছবি ভিডিও পাঠাতো, সে তা রুবিনা কে দেখাতো। পরে তা ডিলিট করে দিয়েছিল। এ-সব নিয়ে সে মানুষিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে থাকতো। তার দাবি ঐ ছেলে টার এ এসবের কারনেই সে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

মারিয়ম বলেন, রুবিনা আজ কাজে যায়নি। আমি কাজে চলে যাই। বিকেল ৩টার দিকে ফোন করে সে জানায়, ‘আমার ভালো লাগছে না, তুই দ্রুত চলে আয়, আমি মরে যাব।’ এরপর ভিডিও কলে দেখি ও ফ্যানের সঙ্গে ওড়না বাঁধছে। আমি দ্রুত বাসায় চলে এসে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পাই। ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় ছিটকিনি ভেঙে নদীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করি। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে সবুজবাগ ডিভিশনের এসি মনতোষ বিশ্বাস বলেন, ঘটনা শুনে এসেছি, প্রাথমিকভাবে শুনেছি সে আত্মহত্যা করেছে, প্রকৃতপক্ষে আত্মহত্যা না অন্য কিছু, তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।

 

ad

পাঠকের মতামত