হৃদয় গলেনি নানি-খালার, শিশু দুটির কান্না শুনেছেন আদালত
মায়ের জন্য অবুঝ শিশুর আর্তচিৎকারে যেন কেঁপে উঠছে গোটা পৃথিবী। বৃষ্টির মতো চোখ দিয়ে ঝরে পড়ছে অশ্রুজল।
প্রতিবেশীর হাত ধরে আড়াই বছরের শিশু ইয়াসিন আর সাড়ে ৩ বছরের টুম্পা মা-বাবাকে ফেরত পাওয়ার আশায় বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) আদালতে আসে বিচার চাইতে। শুধু একটাই চাওয়া, মায়ের কোল আর বাবার স্নেহের পরশ।
শিশুদের আদালতে নিয়ে আসা প্রতিবেশীরা সময় নিউজকে জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে দুই শিশুর নানির করা মামলায় গত ৬ দিন ধরে কারাগারে আছেন তাদের মা ওয়াসিমা ও বাবা তোফায়েল। আরও জানান বাবা-মার সঙ্গে সঙ্গে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারিয়েছে দুই শিশু।
সকাল গড়িয়ে বিকেল হলো, কিন্তু প্রতীক্ষা শেষ হয় না দুই অবুঝের। দুই শিশুর মা-বাবাকে জামিন দেননি আদালত। তাই আবারও শুরু হয় ছোট্ট ইয়াসিনে বুকফাটা কান্না, আর বাকরুদ্ধ টুম্পার অসহায় চাহনি।
এরই মাঝে প্রতিবেশীদের অনুরোধ আসে শিশুদের নানির বাড়িতে আশ্রয় পেতে সহযোগিতার করার। কারণ মামলার পরপরই নিজের মেয়ের দুই সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন মামলার বাদী মোমেনা বেগম।
আশাভঙ্গ হতে কয়েক মুহূর্তেও লাগল না। গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে রেগে উঠলেন মামলার বাদী ও নানি মোমেনা বেগম। চিৎকার শুরু করলেন দুই শিশুর খালাও। সাফ জানালেন কিছুতেই তারা দুই শিশুকে বাড়িতে ঠাঁই দেবেন না।
শিশুদের অসহায়ত্ব, প্রতিবেশীদের আকুতি কিংবা প্রতিবেদকের অনুরোধ কোনো কিছুতেই মন গলল না শিশুদের আত্মীয়ের। এলাকাবাসীও অভিযোগ জানালেন, মামলার বাদী মোমেনা বেগমের বিরুদ্ধে। জানা গেল মামলা করাই তার পেশা। এর আগেও নাকি প্রতিবেশীদের নামে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন তিনি।
নিজ ঘরেই ঠাঁই না হওয়ায় দুই শিশুকে আবারও ঠাঁই নিতে হলো প্রতিবেশীর আশ্রয়ে। তবে এবার যেন সৃষ্টিকর্তা মুখ তুলে চাইলেন দুই শিশুর ওপর। খুশির খবরটা এল উচ্চ আদালত থেকে। আদালত দুধের শিশুদের অবস্থা বিবেচনা করে জামিন দিয়েছেন তাদের মা ওয়াসিমাকে। আর বাবা তোফায়েলের কেন জামিন হবে না মর্মে রুল দিয়েছেন আদালত।
হাইকোর্টের আদেশ বিচারিক আদালতে দাখিল হলে তবেই দুই শিশু ফিরে পাবে মাকে। আর তাদের মা ফিরে পাবে নিজের নাড়িছেঁড়া ধনকে। তাই এবার আবারও অপেক্ষায় ইয়াসিন ও টুম্পা। তবে এবারের প্রতীক্ষা প্রিয়জনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার।




