লাখ লাখ নাগরিককে করোনার টিকা দিচ্ছে চীন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমতি ছাড়াই চীনে ১ লাখেরও বেশি মানুষকে পরীক্ষামূলক কোভিড-১৯ টিকার ইনজেকশন দিয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। এমন তথ্য জানিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।
ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল তাদের প্রতিবেদনে বলছে, বিপদ সত্ত্বেও চীনা ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে গিয়ে নতুন টিকা প্রয়োগ করছে। করোনা টিকা চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে গণহারে প্রয়োগ করতে থাকলে বিপর্যয় নেমে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিনোফার্মের সহায়ক সংস্থা চীনা ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপ কোম্পানির দুটি পরীক্ষামূলক টিকা গত জুলাইয়ে বেইজিংয়ের কাছ থেকে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পায়।
চলতি সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষামূলক ডোজ হাজারো দেয়া হয়েছে মানুষকে। যদিও ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে হাজারো না, লাখো চীনা নাগরিককে গণহারে টিকার ইনকেজশন পুশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও জার্মানির বেশ কয়েকটি টিকা ট্রায়ালে এবং কার্যকারিতায় এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের উপর ব্যবহারের অনুমতি পায়নি, সেখানে চীন কিভাবে নিজ দেশের নাগরিকদের করোনার ইনজেকশন পুশ করছে, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
তিনটি চীনা টিকার মধ্যে ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপের তৈরি দুটি টিকা ও সিনোভ্যাকের একটি টিকা জরুরিভাবে নাগরিকদের ওপর ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। চতুর্থ আরেকটি টিকা সেনাসদস্যদের দেওয়ার জন্য সবুজ সংকেত পেয়েছে। তার মানে সাধারণ মানুষের উপর অবাধে টিকা প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
চীনের সিনোভ্যাকের টিকাটি বর্তমানে ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ায় পরীক্ষা চলছে। টিকাটি বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশে পরীক্ষা হতে পারে। করোনার মোকাবিলায় বিশ্বের দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।




