নে’তানিয়াহুর সঙ্গে বসতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না যুবরাজ
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসি সফরের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।এ সফর পরিকল্পনার খবর ফাঁ;স হও;য়ার আত;ঙ্ক থেকে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যুবরাজের ভয়, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে তার উপস্থিতি একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠতে পারে।মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
যুবরাজ ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার বৈঠক রেকর্ড হবে কিনা এবং তার পরের ঘোষণা বা ক্যামেরায় লাইভ দেখানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল কিনা; সে বিষয়ে তারা ঐকমত্যে আসতে পারেননি।
কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার জামাতা জারেড কুশনারসহ যারা এই বৈঠক নিয়ে উদগ্রীব ছিলেন, তাদের মতে– নেতানিয়াহুর সঙ্গে করমর্দনের মাধ্যমে মোহাম্মদ বিন সালমান একজন তরুণ শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে তার ভাবমর্যাদা ফিরিয়ে আনতে পারতেন।
এ ছাড়া মার্কিন মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের চুক্তিতে সমর্থন বাড়াতেও সহায়তা করতে পারবেন যুবরাজ। পরবর্তী বিবৃতিতে, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার কাছাকাছি পর্যায়ে চলে যেতেন যুবরাজ। কিন্তু এই বৈঠক পরিকল্পনা নিজেই এই আভাস দিচ্ছে যে দখলকার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পথেই রয়েছে সৌদি আরব।
যুবরাজ মোহাম্মদের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় নির্ধারণ হওয়ার পাশাপাশি তার প্রটোকল টিমকেও সেখানে পাঠানো হয়েছিল। রিপাবলিকান দলের কনভেনশন শেষে ৩১ আগস্ট তার মিত্র দেশটিতে সফর করার কথা ছিল।এর আগে ২০১৮ সালের মার্চে তিন সপ্তাহের সৌদি সফরে ছিলেন সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি।
কিন্তু এবারের সফরের খবর ফাঁস হওয়ার পর শনিবার তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ভ্রমণের ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার শর্ত ছিল, সম্পূর্ণ গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে তিনি এই সফর করবেন। কর্মসূচি চলার সময় কেবল তার উপস্থিতির খবর জানাজানি হতে পারবে।
মার্কিন কংগ্রেসে যুবরাজের বিরোধীদের অভাব নেই। তার উপস্থিতি টের পাওয়ার মাত্র তার বিবৃতি ইস্যু করতে সময় নেবে না। আর ওয়াশিংটন পোস্টের সাং;বাদিক জামাল খা;শোগির হ;ত্যার বিচার দাবিতে ও সৌদির সাবেক স্বরা;ষ্ট্রমন্ত্রী সাদ আল জাবরির পক্ষে সরব মানবা;ধিকার;কর্মীরা আইনি পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিলম্ব ঘটাবে না।
২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি ক;নস্যুলেটে সাংবাদিক জা;মাল খা;শো;গিকে হ;ত্যা ও নিজ ভূমিতে মানবাধিকার লঙ্ঘ;নের ঘটনায় পশ্চিমা বিশ্বে যুবরাজের ব্যক্তিত্ব তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
কিন্তু ট্রাম্প ও কুশনার অনেকটা বেপরোয়াভাবে এই সফর বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছেন। যুবরাজের সফর বাতিল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসরাইল-আমিরাত চুক্তির পক্ষে সমর্থন জোগাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং কুশনারকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।




