চারদিক পানিতে থইথই , খাটে বসে রাত পার করছেন আমিনা বেগম
নিউজ ডেস্ক।। ‘শোবার চৌকিটি পানিতে ডুবে যাওয়ায় গত দুই রাত চেয়ারে বসেই রাত পার করছি। আইজকা পানি একটু কমায় চৌকিটা জাইগা উঠছে।
পেটে খিদে থাকলেও আইজকা রাতের ঘুমটা হইতে পারে।’ তিন সপ্তাহ ধরে বন্যার পানিতে আটকে থাকা সিরাজগঞ্জের বিয়ারা ঘাট এলাকার আমিনা বেগম এভাবেই জানালেন তাঁর দুর্দশার কথা।
তিনি জানালেন, তিন সপ্তাহ ধরে বন্যার পানি ঘরে প্রবেশ করলেও বাড়তে থাকা পানি এখন বুক সমান পানিতে দাঁড়িয়েছে। ইট দিয়ে ঘরের চৌকি উঁচু করে কোনো রকমে দিন পার করলেও শুক্রবার চৌকিটিও ডুবে যায়। এরপর সারা রাত চৌকির ওপর একটা চেয়ার বসিয়ে তাতে পুরো রাত পার করেছেন। চাল, ডালের পাশাপাশি আগুন জ্বালানোর জন্য শুকনো জ্বালানিও নেই।
আজ শনিবার দুপুরে কাঁঠালের বিচি ভেজে খেয়েছেন। রাতে কী খাবেন তা নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা জানালেন তিনি এ প্রতিবেদককে। তবে শনিবার থেকে পানি সামান্য কমতে শুরু করায় তিনি স্বস্তিও জানালেন।
সিরাজগঞ্জের বিয়ারা ঘাট এলাকার পাঁচ সন্তানের জননী আমিনা বেগম প্রায় ১২ বছর ধরে বসবাস করছেন টিনের চাল দিয়ে ঘেরা ছোট্ট এক খুপরিতে। বর্তমানে এর পুরোটাই পানিতে ডুবে আছে। ভাঙা বেড়া আর দরজা দিয়ে হু হু করে বয়ে যাচ্ছে পানির স্রোত। ১০ বছর আগেই তাঁর স্বামী শাহাদত হোসেন মারা যান। ইতিমধ্যে চার মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। একমাত্র ছেলে বিদ্যুৎ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ায় সন্তান এখন তার কাছে বোঝা।
তিনি আক্ষেপ করে জানান, পাঁচ দিন আগে নেশার টাকা দিতে না পারায় তাঁর ছেলে বাড়ির কিছু মালামাল নিয়ে সরে পড়েছে। চারদিকে থইথই বন্যার পানির মধ্যে মধ্যবয়সী মহিলা একাকী দিন-রাত পার করছেন। দুদিন আগে তাঁর ব্যবহৃত চৌকিটি পানিতে ডুবে যাওয়ায় আর তা উঁচু করতে পারেননি। খাবার সংগ্রহের জন্য বাইরে বের হতে পারেননি, যে কারণে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাঁর। আর গত দুই রাত তিনি চৌকির ওপর একটি চেয়ারে বসে পুরো রাত পার করেছেন। তিনি জানালেন, মাঝে মাঝে ঝিমুনি আসায় পানিতে পড়ে গেছেন একাধিকবার। তবে শনিবার থেকে পানি কমতে শুরু করায় তাঁর চোখেমুখে ক্লান্তি আর হতাশার পরিবর্তে ফুটে উঠেছে স্বস্তির ভাব।
তিনি অভিযোগ করে জানান, তাঁর এই দুর্দশায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাঁকে কোনো সহায়তা করেনি। তবে দুদিন আগে স্থানীয় এক প্রতিবেশী তাঁকে দুই প্যাকেট বিস্কুট দিয়েছিল। ক্ষোভ প্রকাশ করে মধ্যবয়সী এই মহিলা জানান, তিনি ছিলেন একজন কর্মজীবী মহিলা। শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে আয়ার কাজ করেছেন; কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সেই চাকরি এখন আর নেই। আয়-রোজগার বন্ধ। ছেলেটাও নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ায় বিপদ আরো বেড়েছে। তাঁর ভাষায়- আমরা শুনেছি, সরকার কোটি কোটি টাকা গরিব-দুঃখীদের ত্রাণ দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের মতো অভাবীরা যদি সহায়তা না পায়, তবে এই সহায়তাগুলো কারা পাচ্ছে? উৎস: কালের কণ্ঠ।






