330455

‘ক্যাপ্টেন’ ফল-মূল খেয়ে দ্রুত বেড়েছে, মূল্যও কম নয়…

নিউজ ডেস্ক।। মাত্র এক বছর ২ মাস আগে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের গোহাটি থেকে ৮৬ হাজার টাকা দিয়ে ‘অস্ট্রেলিয়ার ফিজিয়ান’ জাতের একটি গরু ক্রয় করেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার জগদিশপুর গ্রামের মাসুদ রানা।

এরপর তিনি নিয়মিত খৈল-ভূষি মিশ্রিত পানির সাথে আপেল, কমলা, মাল্টা ও মানিক কলা খাওয়াতে থাকেন। সেই সাথে তিনি গরুকে খুদের ভাত ও খড় কেটেও খাওয়াতেন নিয়মিত।

মাত্র ১০ মাস পরই মার্চ মাসে গরুটি এমনভাবে বেড়ে উঠে যে, স্থানীয় বাজারে এর দাম উঠেছে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

কিন্তু পেশায় খাদ্য ব্যবসায়ী ও পোল্ট্রি খামারি মাসুদ রানা গরুটি আরো কয়েক মাস রাখার ইচ্ছা পোষণ করেন। নিয়মিত পরিচর্যা এবং পুষ্টিকর সব খাবারে গরুটির ওজন দাঁড়িয়েছে ২৫ মণে।

মাসুদ রানার মা শহিদা বেগম ও স্ত্রী রেখা বেগম জানান, ‘গরুটি দেখার জন্য প্রায় প্রতিদিনই দূর -দূরান্ত থেকে লোকজন আমাদের বাড়িতে ভিড় জমায়। তবে এতে বিরক্ত মনে হয় না, ভালোই লাগে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মুকুল, মিন্টু ও সামিউল জানান, সম্ভবত আমাদের দুই জেলা জয়পুরহাট ও নওগাঁয় এতো বড় গরু আর কোথাও নেই। রানা ভাইয়ের গরু দেখতে এ গ্রামে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ আসেন।

গরুর মালিক মাসুদ রানার জানান, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও করোনা আতঙ্কে বড় গরু কেনার মতো পাইকার পাচ্ছেন না তিনি। অন্যদিকে বিশাল আকারের এই গরুটি নিয়ে স্থানীয় বাজারেও যেতে পারছেন না। কারণ, গরুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্য বিধির কোনো বালাই নেই।

তিনি জানান, একবছর ২ মাস আগে অনেকটা সখের বশেই গরুটি কিনেছিলাম। বগুড়ার এক খামারীর পরামর্শে গরুকে পুষ্টিকর ফলমূল খাওয়ানো এবং প্রাকৃতিক উপায়ে যত্ন নেয়ায় অতি দ্রুত বেড়েছে। কোরবানীর বাজারে এই গরুর দাম ১০-১২ লাখ টাকা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন পাইকার পাচ্ছি না। অন্যদিকে স্থানীয় পশুর হাটে স্বাস্থ্য বিধির কোনো বালাই না থাকায় ভয়ে সেখানেও তুলতে পারছি না। বর্তমানে আমি এই ক্যাপ্টেনকে নিয়ে অনেকটা দুশ্চিন্তায় আছি।

এ বিষয়ে জয়পুরহাট সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন ‘বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে এ ধরণের গরু নিয়ে কোনো খামারি যদি সমস্যায় পড়ে থাকেন, তাহলে তারা আমাদের কার্যালয়ে নিয়ে রআসতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ওই গরুর ছবি ও ভিডিও ক্লিপ দিয়ে আমরা অনলাইন মার্কেটে আপলোড দিচ্ছি। এতে খুব সহজেই তার গরুটি বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

ad

পাঠকের মতামত