কিশোরীকে হ’ত্যার ভ’য় দেখিয়ে বারবার ধ’র্ষণ!
নিউজ ডেস্ক।। ঢাকার দোহার উপজেলার হ’ত্যার ভ’য় দেখিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষ’ণের অ’ভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বি’রুদ্ধে। এ ঘটনায় ধ’র্ষণে সহযোগিতা করার অ’ভিযোগে এক নারীকে গ্রে’প্তার করেছে পুলিশ।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, শনিবার (৪ জুলাই) রাতে ভূক্তভোগী ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে থানায় পৃথক তিনটি মাম’লা দায়ের করেছেন। প্রথম মা’মলায় একজন, দ্বিতীয় মা’মলায় দুইজন ও তৃতীয় মা’মলায় একজনকে আ’সামি করা হয়েছে।
মা’মলার পরপরই উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে অ’ভিযান চালিয়ে ধ’র্ষণে সহযোগিতা করার অ’পরাধে বাড়িওয়ালা সোমা আক্তার (৩০) নামে এক নারীকে গ্রে’প্তার করে রবিবার আ’দালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি সাজ্জাদ হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূক্তভোগী ওই কিশোরীর বাবা একজন রিকশাচালক। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। প্রায় চার মাস আগে স্ত্রী ও ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েকে নিয়ে বিলাসপুর গ্রামের সোমাদের বাড়িতে ভাড়া আসেন তাঁরা। এরপর একই গ্রামের সেলিম চোকদারের মেয়ের সঙ্গে ওই কিশোরীর সখ্যতা গড়ে উঠে। সেই সুবাদে মাঝে মধ্যেই রাতে তার সঙ্গে রাতে ঘুমাতে যেতেন ওই কিশোরী।
ভূক্তভোগী কিশোরী সাংবাদিকদের জানান, প্রায় আড়াই মাস আগে এক রাতে সেলিম চোকদারের মেয়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলো সে। ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে সেলিম চোকদার এসে তাঁর মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী একটি পরিত্যক্ত জায়গায় নিয়ে জো’রপূ’র্বক ধ’র্ষণ করেন। ধ’র্ষণের এ ঘটনা কাউকে বললে মে’রে ফেলার হু’মকিসহ বিভিন্ন ভ’য়ভীতি দেখান সেলিম চোকদার। পরবর্তীতে সেলিম তাঁর প্রতিবেশী বন্ধু কিয়ামউদ্দিন হওলাদার ও ইদ্রিস মোল্লাকে নিয়ে তাকে ‘ভ’য় দেখিয়ে আরও কয়েকবার ‘ধ’র্ষণ করেন। আর এ কাজে সহযোগিতা করেন বাড়িওয়ালা সোমা।
ওই কিশোরী আরও জানান, ধ’র্ষণের সময় ধ’র্ষকরা এ ঘটনা কাউকে না জানাতে ধাঁরালো অ’স্ত্র দেখিয়ে তাকে হ’ত্যার ভ’য় দেখাতো। এছাড়াও স্থানীয় মুদি দোকানী তারা মিয়া আমার বাবার কাছে টাকা পাবে এ কথা বলে সুযোগ বুঝে তাকে দোকানে ডেকে নিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিতেন।
সম্প্রতি এ ঘটনা নাটকীয়ভাবে এলাকায় জানাজানি হয় একটি গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে। গত শুক্রবার বিলাসপুর ইউনিয়নের আলম বাজার এলাকায় রাধানগর গ্রামসহ আশপাশের অন্তত তিনটি গ্রামের কয়েকশ লোকের সমাবেশ ঘটিয়ে ওই কিশোরীর উপস্থিতিতে ধ’র্ষণের ঘটনা বি’চারের মাধ্যমে সমোঝতার চেষ্টা করা হয়। তবে এ ঘটনায় অ’ভিযুক্তরা সালিসে উপস্থিত না হওয়ায় এবং ঘটনাটি আনুমানিক আড়াই মাস আগে হওয়ায় সমঝোতায় বাধার কারণ হয়। পরে এ সময় বি’চারের দায়িত্বে থাকা সমাজপতিরা দোহার থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন।
পরে এ খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে অ’ভিযুক্তরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে সাংবাদিক ও নারী সমাজকর্মীদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নি’যার্ত’ন দম’ন আইনে পৃথক তিনটি মাম’লা নেন দোহার থানা পুলিশ।
মা’মলা’র বাদী ধ’র্ষিতা কিশোরীর বাবা মো. সুমন সাংবাদিকদের জানান, অ’ভিযুক্তরা তাকে প্রথমে টাকা দিয়ে ঘটনাটি মী’মাংসার চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে তাকে মেরে ফেলাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে হুম’কি-ধামকি দিয়ে আসছেন। তিনি অ’পরাধী’দের দ্রুত গ্রে’প্তারের মাধ্যমে সুষ্ঠ বি’চার দাবি করেন।
এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন কে বলেন, এ ঘটনায় ধ’র্ষণে’র কাজে সহযোগিতা করার দায়ে বাড়িওয়ালা এক নারীকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই ধ’র্ষক’রা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রে’প্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উৎস: কালের কণ্ঠ।




