২ বস্তা সরকারি ওষুধ ফার্মেসি মালিকের বাড়ির গর্তে
নিউজ ডেস্ক।। লালমনিরহাটে সরকারি ওষুধসহ আ’টক ফার্মেসি মালিক সারাফাত আলীর বাড়ির মাটির নিচে গর্ত থেকে এবার ২ বস্তা সরকারি ওষুধ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেলে জেলা শহরের ওয়ালেস কলোনী এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে এসব ওষুধ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জেলা শহরের পুরান বাজার এলাকার টাউন ফার্মেসিতে অ’ভিযান চালিয়ে অর্ধলাখ টাকার ওষুধসহ তাকে আ’টক করে সদর থানা পুলিশ।
আটক ফার্মেসি মালিক সারাফাত আলী শহরের ওয়ালেস কলোনীর শমসের আলীর ছেলে। তিনি শহরের পুরান বাজারের টাউন ফার্মেসির মালিক।
সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে সাড়ে ৬ লাখ টাকার সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামসহ শহরের ড্রাইভার পাড়ার আব্দুর রাজ্জাক রেজা ও তার স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিনকে আ’টক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে শহরের টাউন ফার্মেসিতে অ’ভিযান চালিয়ে প্রায় অর্ধলাখ টাকা ৬ পদের সরকারি ওষুধসহ ফার্মেসি মালিক সারাফাত আলীকে আ’টক করা হয়।
এ ঘটনায় গত বুধবার (২৪ জুন) সদর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান মিজান বাদী হয়ে ৭ জনের বি’রুদ্ধে একটি মা’মলা দায়ের করেন।
এ মামলায় আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত স্টোরকিপার একেএম মাহবুব আলম, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ককমপ্লেক্সের স্টোরকিপার জাকারিয়া, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টোরকিপার মোয়াজ্জেম হোসেন মুরাদ, ফার্মেসি মালিক সারাফাত এবং আ’টক দম্পতি ও তার ভাইসহ ৭ জনকে এ মা’মলায় আ’সামি করা হয়।
এ মা’মলায় গ্রে’প্তার ফার্মেসি মালিক সারাফাতের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে সদর থানা পুলিশ সারাফাতের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তার বাড়িতে একটি গর্ত থেকে ২ বস্তা সরকারি ওষুধ উ’দ্ধার করে পুলিশ। ২টি বস্তায় ৭ পদের ওষুধ ও ৪শ’ পিস স্যালাইন সেট জব্দ করে পুলিশ। জব্দ করা ওষুধের তালিকা করা হচ্ছে বলেও জানান ওসি মাহফুজ আলম।
এদিকে তিনজন স্টোরকিপারের বি’রুদ্ধে মাম’লা হলেও এখন পর্যন্ত তাদেরকে বরখাস্থ বা গ্রে’প্তার করা হয়নি। আসামিরা তাদের স্টোরের দায়িত্ব পালন করেই চলছেন।
এ ঘটনায় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দীপঙ্কার রায়কে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায়।
পুলিশ এ মামলার নথি পাঠিয়ে অ’ভিযুক্ত তিন স্টোরকিপারকে গ্রে’প্তারে অনুমতি চেয়ে পত্র পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায়।
তিনি বলেন, বাহিরে সরকারি ওষুধ জব্দ করে পুলিশ মামলা করেছে। এ মামলায় গ্রে’প্তারে অনুমতি চাইলেই দিতে হবে এমন নয়। আর বাহিরে জব্দ করা ওষুধের জন্য সরকারি কর্মকর্তার নামে মা’মলা দেয়া কতটুকু যৌতিক? স্টোরকিপাররা তাদের কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন এবং করবেন। তাদেরকে বরখাস্তও করা হয়নি। গ্রে’প্তার করতে পারলে পুলিশ করবে। আ’ইন আ’ইনের গতিতেই চলবে।




