325539

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট : মৃ’ত্যুর আগে দু’সপ্তাহ খাবার ও জল কিছুই খেতে পারেনি গর্ভবতী সেই হাতিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক মৃ’ত্যুর তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে তখন বলা হয়েছিল, জলে ডোবার কারণে অতিরিক্ত জল খেয়ে ফেলেছিল হাতিটি। তার জেরে হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মৃ’ত্যু হয়েছিল বছর পনেরোর হাতিটির।

কিন্তু ম’য়নাত’দন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাজি ফাটার ফলে তৈরি হওয়া মুখের ক্ষ’ত থেকে স্থানীয় সং’ক্রমণ হয়েছিল।

সেই কারণে মুখ সহ সর্বত্র অসহনীয় ব্য’থা হয়েছিল। আর তার জেরে প্রায় দু’সপ্তাহ খাবার ও জল কিছুই খেতে পারেনি হাতিটি। প্র’চণ্ড দু’র্বলতা থেকে শেষ পর্যন্ত নুইয়ে পড়ে এবং জলে ডুবে মৃ’ত্যু হয়।

তবে বিপুল পরিমাণ খাবার বোঝাতে ব্যবহার হয় ‘হাতির খোরাক’। কিন্তু সেই হাতিই যদি খাবার খেতে না পারে? পরিণাম যা হওয়ার তাই হয়েছে। বাজি পুরে রাখা আনারস খেয়ে মুখে বি’স্ফোরণের পর থেকে দু’সপ্তাহ কিছু খেতেই পারেনি। এমনকী জল পর্যন্ত নয়। ক্ষিদে, তেষ্টায় নদীর জলের মধ্যেই ধীরে ধীরে মৃ’ত্যু’র কোলে ঢলে পড়েছে হাতিটি। শুক্রবার ম’য়নাতদ’ন্তের রিপোর্ট আসার পর উঠে এল এই ভ’য়’ঙ্কর তথ্য।

মান্নারকড় বন বিভাগের তিরুভাইজামুকুন্ন বিট অফিসে করা ম’য়নাত’দন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মুখে বি’স্ফোর’ণের জেরে তৈরি হওয়া ক্ষ’ত থেকে স্থানীয় ভাবে সং’ক্রমণ ছড়িয়েছিল। তার জেরেই খাবার খেতে পারেনি হাতিটি। আর পেটে থাকা হাতির ভ্রুণটির বয়স হয়েছিল দু’মাস।

কিছু দিন আগে কেরলের মল্লপ্পুরমে খাবারের খোঁজে হাতিটি জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে চলে এসেছিল। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দারা আনারস খেতে দিয়েছিল তাকে। কিন্তু সেই আনারসের মধ্যে ভর্তি করা ছিল পটকা-বাজি। সেই আনারস খেতেই মুখে ফেটে যায় বাজি ভর্তি আনারস। তার পর সেখান থেকে হাতিটি চলে যায় ভেলিয়ার নদীর ধারে। প্রায় দু’সপ্তাহ শুঁড় ডুবিয়ে জলে দাঁড়িয়ে ছিল। গত ২৭ মে সেখানেই মৃ’ত্যু হয় হাতিটির।

হাতিটির ম’য়নাত’দন্ত মুখে বা শরীরে গু’লি বা ধাতব কোনও বস্তুর আ’ঘা’তের চিহ্ন মেলেনি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বাইরে থেকে কোনও কিছু দিয়ে আ’ঘা’ত করা হয়েছিল, মেলেনি তেমন প্রমাণও। তবে রিপোর্টে বলা হয়েছে, মুখের মধ্যে নানা ধরনের টিসু ও প্রচুর পোকার লার্ভা। চিকিৎসকরা মনে করছেন, ঘা থেকে যে সং’ক্রমণ হয়েছিল, সেখানেই লার্ভা তৈরি হয়েছিল। এ ছাড়া নীচের চোয়াল অত্যন্ত ফুলে যাওয়া চোয়াল ছাড়া আর কোনও আ’ঘাতের চিহ্ন নেই। উৎস: আনন্দবাজার

ad

পাঠকের মতামত