323434

পটুয়াখালীতে আম্পানে ব্যা’পক ক্ষতি, নি’হত ২

নিউজ ডেস্ক।। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে ব্যাপক ক্ষ’তি হয়েছে। প্রচারণা কাজ চালাতে গিয়ে পানিতে ডুবে সিপিপির টিম লিডার ও গাছের চাপায় এক শিশুসহ নি’হত হয়েছে ২ জন।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে সাইক্লোন সেল্টারে লোকজনকে নিরাপদে আশ্রয় নিতে প্রচারণা কাজ চালাতে গিয়ে সকালে নৌকা ডুবে পানিতে কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের সিপিপির টিম লিডার মোঃ শাহআলম মৃ’ত্যুবরণ করেন। এদিকে পটুয়াখালীর গলাচিপার পানপট্টি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের খরিদা গ্রামে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে মো রাশেদ (৫) পিতা-শাহজাদা সন্ধ্যার কিছু আগে আশ্রয় কেন্দ্রে যাবার সময় গাছের ডাল ভেঙ্গে পরে নিহত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধুরী।

এদিকে শহর রক্ষাবাঁধ উপচে শহর প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ রাস্তা এবং বেড়িবাঁধ উপচে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বাড়িঘর ডুবে গেছে। ভেসে গেছে অনেক চাষির মাছের ঘের। ওইসব এলাকার মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটাসহ গোটা উপকুলীয় এলাকায় প্রচণ্ড বেগে ঝড়ো বাতাসের সাথে বুষ্টি হয়। সন্ধ্যার পর থেকে সমুদ্রে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে। ঝড়ে গলাচিপার পানপট্টি বাজারের ১০/১২টি দোকান উপড়ে পড়ে। পায়রা নদীর পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হ্য়। এতে কলাপাড়ার ও রাঙ্গাবালীর উপজেলার ১৭টি চরের ২০টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

এ পর্যন্ত জেলায় ৭৫৩টি সাইক্লোন সেল্টারে সারে ৩ লাখ মানুষ সহ ৮০ হাজার গবাদিপশু আশ্রয় নিয়েছে। বিকেল থেকে পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল থেকে সাধারণ মানুষদের ট্রলারযোগে মূল ভূখণ্ডে সরিয়ে নেয় প্রশাসন। বিশেষ করে যেসব চরগুলোতে পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার নেই।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে পটুয়াখালীতে ভাঙা বাঁধ ও নতুন করে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে। পটুয়াখালী শহর রক্ষাবাঁধ উপচে শহর প্লাবিত হয়েছে। রাত ১০টার পর শহরে পানি ডুকতে থাকে। শহরের পুরান বাজার, নিউ মার্কেট, সেন্টার পাড়া, ৯নং ওয়ার্ড ও পৌর এলাকার বেশ কিছু এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান জানান, বিপদসীমার ১৭৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পায়রা লোহালিয়া, তেতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পানি প্রবেশ করছে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, রাঙ্গাবালী, গলাচিপার ও কলাপাড়ার অবস্থা খুবই ভয়ানক। বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি চলে আসছে, প্রচুর ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া দুজন মারা গেছে।

তিনি আরো বলেন, কিছু জায়গায় বাঁধ ভেঙে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসেব তাৎক্ষণিক দেওয়া সম্ভব না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার দশমিনা, বাউফল, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া এলাকার ৫০ এর অধিক চর প্লাবিত হয়েছে। ওইসব নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ রাস্তা এবং বেড়িবাঁধ উপচে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বাড়িঘর ডুবে গেছে। ভেসে গেছে অনেক চাষির মাছের ঘের। ওইসব এলাকার মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে।

দুমকী উপজেলার পাংগাশিয়া ইউনিয়নের রাজগঞ্জ এলাকার ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে পায়রা নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবেশ করে উত্তর পাংগাশিয়া, দক্ষিণ পাংগাশিয়া, রাজাগঞ্জসহ অন্তত পাঁচ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে লেবুখালী ফেরিঘাট এলাকা তলিয়ে গেছে। নির্মাণাধীন লেবুখালী সেতুর দক্ষিণপাড়ের সড়ক প্রায় মৌকরণ ব্রিজ পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে। উৎস : সময়নিউজ।

ad

পাঠকের মতামত