বঙ্গোপসাগরে কেন সবচেয়ে বেশি সাইক্লোন তৈরি হয়?
নিউজ ডেস্ক।। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে বসবাস প্রায় ৫০ কোটি মানুষ। বিশ্বের ইতিহাসে যতসব ভ’য়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আ’ঘাত হেনেছে, তার বেশিরভাগই হয়েছে এই বঙ্গোপসাগরে। ’ওয়েদার আন্ডারগ্রাউন্ড’ নামের একটি ওয়েবসাইটে বিশ্বের ৩৫টি সবচাইতে ভ’য়ঙ্কর মৌসুমী ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা রয়েছে। যার ২৬টি ঘুর্ণিঝড়ই বঙ্গোপসাগরে।
ঘূর্ণিঝড় আম্পান, বুধবার (২০ মে) বিকেল নাগাদ বাংলাদেশ এবং ভারতের উপকূলে আ’ঘাত হানবে বলে আ’শঙ্কা করা হচ্ছে। এটি হবে এ ধরণের ২৭তম ঘূর্ণিঝড়।
ভারতের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আম্পান যখন উপকূলে আঘাত হানবে তখন এটি ভ’য়ংকর শক্তিশালী হয়ে উঠবে। বাতাসের সর্বোচ্চ গতি হবে ঘন্টায় ১৯৫ কিলোমিটার বা ১২১ মাইল । জলোচ্ছ্বাস হবে প্রায় দোতলা বাড়ির উচ্চতায়।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস সবচেয়ে ভয়ং’কর হয়ে উঠে অবতল আকৃতির অগভীর বে বা উপসাগরে। মৌসুমী ঘূর্ণিঝড়ের তীব্র বাতাস যখন এরকম জায়গায় সাগরের পানিকে ঠেলতে থাকে, তখন ফানেল বা চোঙার মধ্যে তরল যে আ’চরণ করে, এখানেও তাই ঘটে। সাগরের ফুঁ’সে উঠা পানি চোঙা বরাবর ছুটতে থাকে। এরকম ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের টেক্সটবুক উদাহরণ হচ্ছে বঙ্গোপসাগর জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ এবং ওয়েদার আন্ডারগ্রাউন্ডের একজন লেখক বব হেনসন।
পৃথিবীর নানা অঞ্চলে আরো অনেক উপসাগর আছে যেখানে উপকূল বরাবর এই ধরনের জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁ’কি আছে। যেমন লুইজিয়ানার গালফ কোস্ট। কিন্তু বিশ্বের আর যে কোন উপকূলের চাইতে বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকূল এই ধরনের সার্জ বা জলোচ্ছ্বাসের সবচাইতে বেশি ঝুঁ’কিতে আছে বলে জানান বব হেনসন।
আম্পান নিয়ে এত বেশি উদ্বেগের প্রধান কারণ এটি একটি ’সুপার সাইক্লোন’। এই ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতি হবে প্রতি ঘন্টায় ১৩৭ মাইল বা ২২০ কিলোমিটারের বেশি।
সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় বহু ধরনের বি’পদ নিয়ে আসে। প্রথমত: প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া সবকিছু ধ্বং’স করে দিতে পারে। দ্বিতীয়ত: ঝড়ের সঙ্গে সঙ্গে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ধেয়ে আসবে। আর ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রচণ্ড ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হবে, যাতে বন্যা দেখা দেবে। বঙ্গোপসাগরে বা আরব সাগরে যেসব ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, প্রতি দশ বছরে তার মাত্র একটি হয়তো এরকম প্রচণ্ড ক্ষমতা বা শক্তির ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।
ভারতের সর্বশেষ সুপার সাইক্লোন আ’ঘাত হেনেছিল ১৯৯৯ সালে। তখন উড়িষ্যা রাজ্যে প্রায় দশ হাজার মানুষ মা’রা গিয়েছিল। উৎস: বিবিসি বাংলা






