গৃহবধূ সন্তান প্রসব করলেন ভ্যানেই, ভর্তি নেয়নি কোন হাসপাতাল
নিউজ ডেস্ক।। করোনার ভয়ে চিকিৎসা না পেয়ে এক গৃহবধূ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে ভ্যানের উপর সন্তান প্রসব করছেন। নিম্নআয়ের শ্রমিকের কাজ করেও মেয়ের জীবন বাঁ’চাতে সাতক্ষীরার বড় বড় দুটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও করোনার ভ’য়ে সেখানে তার ভর্তি নেয়া হয়নি।
অবশেষে সরকারি হাসপাতালে গিয়েও কোন চিকিৎসা পাওয়া যায়নি। নিরূপায় হয়েই একজন ধাত্রী ডেকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভ্যানের উপর সন্তান প্রসব করাতে হয়েছে। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন বিষয়টি তিনি শুনেছেন, ত’দন্ত করে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিবেন।
প্রতিবেশী কাকা ফরিদ উদ্দীন বাপ্পী জানান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝুটিতলা গ্রামের শ্রমিক পরেশ দাস তার তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে শিমুলী রানী দাসের সাথে বছর দেড়েক আগে ছোনকা গ্রামের চন্ডি দাসের ছেলে বিধান দাসের সাথে বিয়ে দেন। প্রথা অনুযায়ী মেয়ের প্রথম বাচ্চা প্রসবের জন্য বাপের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পহেলা মে মেয়ের প্রসব বেদনা শুরু হলে মেয়েকে প্রথমে বেসরকারি বড় হাসপাতাল চায়না-বাংলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাকে তারা ভর্তি নেয়নি। পরে ডক্টরস ল্যাব এন্ড হসপিটালে নিয়ে গেলে তারাও ভর্তি নেয়নি। অবশেষে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সরকারি সদর হাসপাতালে। সেখানেও অনেক ডাকাডাকি করেও ডাক্তার পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে ভ্যানের উপর ধাত্রীর মাধ্যমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সন্তান প্রসব করানো হয়।
স্বজনরা বলেন, দুটি ক্লিনিকের পর হাসপাতালেও তার ভর্তি নেয়নি, অনেক কষ্ট পেয়েছে সে। তারপরও সদ্য প্রসূত পুত্র রুদ্রকে নিয়ে এখন অনেকটা ভাল আছে সে। ডাক্তার নার্স থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের মেয়ে চিকিৎসা পেল না, এটাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের জিজ্ঞাসা। তারা বলেন, ক্লিনিকগুলো নাহয় করোনার ভয়ে ভর্তি নিচ্ছে না। তাই বলে সরকারি হাসপাতালে কেন চিকিৎসা হলো না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দাবি এধরনের কষ্ট যেন কেউ না পায়। উৎস: সময়টিভি।




