317546

এক গার্মেন্টস কর্মীতেই রামগঞ্জের সর্বনাশ!

রাব্বি রহমত উল্লা: এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিকে রামগঞ্জের বাড়িতে ফেরেন গার্মেন্টস কর্মী রাবেয়া (ছদ্মনাম)। সর্দি-জ্বর ও কাশি কিছুই নেই, শুধু অল্প শরীরব্যথা নিয়ে দুইদিন পর নিজেই আসেন রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

সেখানে সন্দেহবশত তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অথচ সেই মানুষটির সংস্পর্শে এসে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এখন কারোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৪, এর মধ্যে ওই গার্মেন্টস কর্মীর পরিবারের ৮ সদস্যও রয়েছেন।

এর আগে ১২ এপ্রিল লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ১ জন রোগীর দেহে করোনা শনাক্ত হয়। লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল গাফ্ফার, ‘ঢাকায় এক পোশাক কারখানায় কাজ করেন এমন একজন পোশাক শ্রমিক কিছুদিন আগে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফেরেন।

 

গত শনিবার চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস হাসপাতালে তার নমুনা পরীক্ষার ফল ‘পজিটিভ’ আসে। এরপর ওইদিন রাতেই পুলিশের সহযোগিতায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকায় কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

 

 

‘কিন্তু শঙ্কা থাকায় তার পরিবারের সদস্যসহ ১৩৬ জনের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়েছিল।বৃহস্পতিবার  রাত ১১টার দিকে জানতে পেরেছি ওই পরিবারের আরও আট সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া ওই বাড়ির আশপাশের আরও ৫ জনসহ রামগঞ্জে মোট ১৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া জেলার কমলনগরে ৩ জন ও পৌর সদরে ১ জন ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।’ বলেন আব্দুল গাফ্ফার।

 

 

প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পরই রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। লকডাউন ঘোষণার পর থেকে অন্য জেলার লোকজন যাতে লক্ষ্মীপুরে ঢুকতে না পারে, একইভাবে লক্ষ্মীপুর থেকে বাইরের জেলায় যেতে না পারে সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

ad

পাঠকের মতামত