চিকিৎসকের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা করোনা প্রসঙ্গে
স্বাস্থ্য ডেস্ক।। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঋতু পরিবর্তনের সময় বাংলাদেশের মতো দেশে জ্বর, সর্দি-কাশি একটি সাধারণ বিষয়। আর করোনাভাইরাসের মূল উপসর্গগুলির মধ্যে যেহেতু জ্বর, শুকনো কাশি আর শ্বাসকষ্ট রয়েছে, তাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অনেকে। এমন কি করোনা আতঙ্কে চিকিৎসা সংকটেও পড়েছেন সাধারণ সর্দি-কাশি, জ্বরের রোগীরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জি এম মোর্শেদ এই সময় আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, ঋতু পরিবর্তনের কারণে সবারই সাধারণ সর্দি-কাশি, জ্বর হতে পারে। এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
সাধারণ মানুষের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন এই চিকিৎসক। দৈনিক আমাদের সময় অনলাইন-এর পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-
১. সাধারণ ফ্লু বা সাধারণ সর্দি, কাশি, ঠান্ডা-
* সর্দি, * কাশি, * জ্বর, * মাথাব্যথা, * গলাব্যথা
ব্যাপ্তিকাল : এক সপ্তাহ (এর মধ্যেই উপসর্গ কমে যায়)।
চিকিৎসা বা করণীয় :
* কুসুম গরম পানি দিয়ে গারগল। * ভিটামিন সি জাতীয় খাবার (লেবু/ কমলা লেবু) খেতে হবে। * অ্যান্টি হিস্টামিন
* প্যারাসিটামল * ন্যাজাল ড্রপ
২. নিউমোনিয়া : * সর্দি, * কাশি, * কাঁপুনিসহ জ্বর (তাপমাত্রা >১০২ এর বেশি), * শ্বাসকষ্ট, * X Ray- তে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডান পাশে সাদা দাগ থাকে। * CBC-তে শ্বেত রক্তকণিকা বাড়বে। ESR বাড়বে।
ব্যাপ্তিকাল এবং উপসর্গগুলো এক সপ্তাহ পরে বেড়ে যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকাকালীন বয়সে হয় (শিশু ও বৃদ্ধ)।
চিকিৎসা বা করণীয় : * অক্সিজেন, * নেবুলাইজেশন, * ফ্লুইড, * প্যারাসিটামল, * অ্যান্টিবায়োটিক
৩. কোভিড-১৯ বা নভেল করোনাভাইরাস : * সর্দি, * কাশি, * জ্বর, * গলাব্যথা, * উপসর্গ শুরুর ৬ থেকে ১০ দিনের মধ্যে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। * X Ray- তে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ২ পাশে সাদা দাগ থাকে। * CBC- তে লিম্ফোসাইট কমবে।
ব্যাপ্তিকাল এবং উপসর্গগুলো এক সপ্তাহ পরে বেড়ে যায়। শ্বাসকষ্ট একটি অন্যতম লক্ষণ। ইদানীংকালে সব বয়সীরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, প্রেসার, হৃদরোগ রোগীদের সম্ভাবনা বেশি।
প্রতিরোধ : * বাড়িতে অবস্থান করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। * বারবার হাত ধোয়া। * বাহিরের কোনো ব্যক্তি/ বস্তুকে গৃহে প্রবেশ করতে না দেওয়া।
সবশেষে ডা. জি এম মোর্শেদ ইতিবাচক কথা হিসেবে জানান, ৮০% রোগী উপসর্গ দেখা দেয় না। চিকিৎসার প্রয়োজনও হয় না। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।




