ভারত কথা দিয়েছিল সীমান্তে একটিও হত্যাকাণ্ড ঘটবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যে অবস্থানে বিরাজ করছে, সেই অবস্থান থেকে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইতালি সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) তিনি এ মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সীমান্তে একটি মৃত্যুও দেখতে চাইনা। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। এটি যে গ্রহণযোগ্য নয় সে বিষয়ে ভারতও একমত হয়েছিল। ভারত আমাদের কথা দিয়েছে যে, সীমান্তে একটিও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটবে না। কিন্তু তারপরও ঘটছে।’ তিনি জানান, দু’দেশের সীমান্তে প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না এমন চুক্তিও ভারতের সঙ্গে আমাদের রয়েছে।
সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক রয়েছি। চলতি বছর সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঢাকার উদ্বিগ্নতা জানানো হয়। দুই দেশের সম্পর্কে এতো ভালো অবস্থা বিরাজ করছে, অথচ সীমান্তে হত্যাকাণ্ড চলছে। যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, ‘যখনই এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে আমরা ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে জানতে চাই যে, কেন এমন ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে এই বছর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেড়ে গেছে, যা খুবই দুঃখজনক।
ড. মোমেন বলেন, আমরা ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এনে বলেছি এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এত উন্নত এবং এর মধ্যে এগুলো হবে কেন?
উল্লেখ্য, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি বড় দ্বিপক্ষীয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ভারতের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ১১৪৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
সীমান্তে মৃত্যু কমিয়ে আনা হবে, দিল্লি সবসময় এমন প্রতিশ্রুতি দিলেও সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা অব্যহত রেখেছে বিএসএফ।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিএসএফ-এর গুলিতে কমপক্ষে ৪৩ বাংলাদেশিকে নিহত হয়েছেন। এছাড়া গত মাসেও ভারতের সীমান্তের কাছে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।




