ডিসির কাছেও ‘ঘুষ’ চাইলেন এই ভূমি কর্মকর্তা!
জমির নামজারি ফি যেখানে ১১৭স টাকা সেখানে ভূমি কর্মকর্তা খরচ চেয়ে বসলেন ৫ হাজার টাকা। পরিচয় গোপন রেখে ভূমি কর্মকর্তাকে ফোন করেন জেলা প্রশাসক। এতে পোনে ভূমি কর্মকর্তা সরাসরি জেলা প্রশাসককে জানান, ৫ হাজার টাকার এক টাকা কমেও হবে না। ঘটনাটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধূলিহর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের। আর ওই ভূমি কর্মকর্তার নাম মোকলেস আলী এবং জেলা প্রশাসকের নাম এস.এম মোস্তফা কামাল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজেদের জমির নামজারি করাতে কাগজপত্র নিয়ে যান ফাহাদ হোসেন। অফিসে গেলেই কাগজপত্র দেখে ৫ হাজার টাকা ঘুষ চেয়ে বসেন অফিসে থাকা এক যুবক। ফাহাদ হোসেন জানান, নিজেদের জমির নামজারি করাতে জমির কাগজপত্র নিয়ে ভূমি অফিসে যায়। অফিসে যাওয়ার আগে আমি বাইরের সাইনবোর্ডে দেখি, সব মিলিয়ে খরচ ১১৭০ টাকা। অথচ অফিসের কর্মকর্তা আমার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করি।
তিনি আরও জানান, এ সময় জেলা প্রশাসক পরিচয় গোপন করে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুষের টাকা কম দেওয়ার ব্যাপারে কথা বলেন। ৪ হাজার টাকায় কাজটি করে দেওয়া যাবে কি-না এমন অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে এ প্রান্ত থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় এক টাকাও কম হবে না। টাকা নিয়ে আসছি বলে জেলা প্রশাসক মহোদয় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম পাঠান জেলা প্রশাসক।
এদিকে, এ ঘটনায় ঘুষ দাবির এ ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় ধূলিহর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোকলেস আলীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান বলেন, দূর্নীতির অভিযোগে ধূলিহর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোকলেস আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় তাকে বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে দূর্নীতি করার অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছেন।




