স্ত্রীর সহকর্মীকে পেটালেন স্বামী
নিউজ ডেস্ক।। আঙ্গুরা খাতুন ও সোহেল রানা দুজনে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। আঙ্গুরা খাতুন নির্ধারিত সময়ের পরে এসে হাজিরা খাতায় ঠিক সময় লেখার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন শিক্ষক সোহেল রানা। এতে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ক্ষুব্ধ হয়ে আঙ্গুরা খাতুন তার স্বামীকে বিদ্যালয়ে ডেকে আনেন। স্বামী এসে ওই শিক্ষককে অন্য শিক্ষকদের সামনে পেটান।এতে শিক্ষক সোহেল রানা অন্য সহকর্মীদের সামনে অপমানিত হন। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের ৪৩ নম্বর বৃ-চাপিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক সোহেল রানা প্রতিকার চেয়ে রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে শিক্ষক আঙ্গুরা খাতুন ও তার স্বামী মোস্তফা হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়। ইউএনও অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষক সোহেল রানা অভিযোগ করেন, তার সহকর্মী আঙ্গুরা খাতুন নির্ধারিত সময়ের পরে এসে হাজিরা খাতায় সময় ঠিক রেখে সই করেন। তিনি এর প্রতিবাদ করায় তার ওপর ক্ষিপ্ত হন সহকর্মী।
সবশেষ শনিবার বেলা দুইটার দিকে আঙ্গুরা তার স্বামী মোস্তফা হোসেনকে বিদ্যালয়ে ডেকে আনেন। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তাকে ডেকে মারধর করা হয়। এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে শিক্ষিকার স্বামী মো. মোস্তাফা হোসেন বলেন, মাথা ঠিক ছিল না। তাই ঘটনাটি ঘটেছে। এ জন্য অনুতপ্ত তিনি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপসের চেষ্টা চলছে।
প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল গফুর মোবাইল ফোনে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটনাটি ঘটেছে। এটা দুঃখজনক। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি মো. মহাসিন আলী বলেন, আমার উপস্থিতিতেই ঘটনাটি ঘটেছে। এটা শিক্ষক ও আমার জন্য লজ্জাজনক। কমিটির সভা ডেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইউএনও মো. মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাটি দুঃখজনক। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উৎস:ইত্তেফাক।




