295200

সংসদ সদস্য মাশরাফিকেও তোয়াক্কা করছেন না চিকিৎসকরা

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজাকেও তোয়াক্কা করছেন না চিকিৎসকরা। প্রশ্ল উঠেছে চিকিৎসকদের খুঁটির এত জোর কোথায়? মাশরাফি সদর হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনের পর তিন চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে শোকজ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে শনিবারও ৬ চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে একজন ছুটিতে। শোকজ প্রাপ্তরা হলেন, সদর হাসপাতালের সার্জারি (সিনিয়র) বিশেষজ্ঞ আকরাম হোসেন, কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ (জুনিয়র) শওকত আলী ও কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ (জুনিয়র) কাজী রবিউল আলম।

জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট ওয়ানডে দলের অধিনায়ক নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মর্তুজা বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে এক অনুষ্ঠান শেষে আকস্মিকভাবে সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। এসময় কর্তব্যরত ৩ চিকিৎসকের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না দেখে তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস শাকুর এবং পরে অনুপস্থিত সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আকরাম হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের সাথে কথা বলে তাদের কাছ থেকে নানা ধরনের সমস্যার কথাও শোনেন।

তিনি এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখতে পান। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের কর্মকর্তাদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে এ সভায় জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন পিপিএম, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস শাকুর, সিভিল সার্জন ডা. আসাদ-উজ-জামান মুন্সি, হাসপাতালের আর.এম.ও ডা. মশিউর রহমান বাবু উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় এমপি মাশরাফি-বিন মর্তুজা বেশ কিছু বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেন। সেগুলো হলো, যেসব চিকিৎসক হাসপাতালে সময়মতো আসেন না এবং অনুপস্থিত থাকেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। হাসপাতালে প্যাথলজিক্যাল যেটুকু সেবা দেয়া সম্ভব তার সবটুকু যেন সাধারণ রোগীরা পায়। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২.৩০ মিনিট পর্যন্ত চিকিৎসকদের হাসপাতালে অবস্থান করতে হবে। হাসপাতালের দু’টি অ্যাম্বুলেন্স বাদে প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের অভ্যন্তরে থাকতে পারবে না। কোনো দালাল চক্র যাতে হাসপাতালে প্রবেশ করতে না পারে। সব রোগী যাতে সরকারের সাপ্লাইকৃত ওষুধ পায় সে ব্যাপারে জবাবদিহিতা থাকতে হবে। বড় বড় ওয়ার্ডে দুজন করে নার্স দিতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালের জেনারেটর চালু রাখতে হবে। এর কোনটার ব্যতয় ঘটলে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। হাসপাতালে যতটুকু রিসোর্স রয়েছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালের প্রতি দিনকার কর্মকাণ্ড জেলা প্রশাসক ও এসপিকে অবহিত করতে নির্দেশ দেন তিনি।

শনিবার সরেজমিন হাসপাতালে দেখা গেছে, অর্থপেডিক্স বিশেষজ্ঞ আব্দুর রহমান, মেডিকেল অফিসার এ এস. এম ছায়েম এবং সংযুক্তিতে পদায়নকৃত চিকিৎসক কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ শওকত আলী, কাজী রবিউল আলম ও ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তাফিজুর রহমান অনুপস্থিত ছিলেন। আর মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ইয়ানুর হোসেন ছুটিতে রয়েছেন। জানা গেছে, চিকিৎসকের ৩৯টি পদের মধ্যে আরএমও এবং ৫জন সংযুক্তিতেসহ ১৭জন চিকিৎসক রয়েছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ চিকিৎসকই সপ্তাহে ১ থেকে ৩ দিনের বেশি আসেন না।

সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস শাকুর চিকিৎসকরা ফাঁকিবাজি করছেন স্বীকার করে বলেন, বৃহস্পতিবার অনুপস্থিত তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শোকজ লেটার দেয়া হয়েছে এবং তাদের ৩ কর্ম দিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া যেসব চিকিৎসক ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান। জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসকদের হাসপাতালে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হলেও তারা তা করেননি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ad

পাঠকের মতামত