290564

নুসরাত হত্যা : কাউন্সিলর মাকসুদ ৫ দিনের রিমান্ডে

ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার মামলায় আওয়ামী লীগের নেতা ও পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহমদ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১২ এপ্রিল মাকসুদ আলমের বিরুদ্ধে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম। ওইদিন আদালত এর ওপর শুনানি না নিয়ে আজকের দিন ধার্য করেন।আজ আদালত শুনানি শেষে মাকসুদ আলমের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনীর পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাকসুদ আলমের ১০ দিন রিমান্ডের আবেদন করা হলে বিচারক শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ নিয়ে এ মামলার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে মাকসুদ আলমকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। মাকসুদ সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। তিনি নিহত নুসরাতের মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। পাশাপাশি মাকসুদ নুসরাত হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ছয় আসামি ছাড়াও আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এর আগে ৯ এপ্রিল জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালত নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও শহিদুল ইসলামকে পাঁচদিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।১০ এপ্রিল অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে সাতদিন এবং আবছার উদ্দিন ও আরিফুল ইসলামকে পাঁচদিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন একই আদালতের বিচারক। পরের দিন ১১ এপ্রিল উম্মে সুলতানা পপি ও যোবায়ের হোসেনের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ১৩ এপ্রিল জাবেদ হোসেনকে সাতদিনের রিমান্ড দেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইন।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে গুরুতর অবস্থায় ওইদিন রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ২৭ মার্চ ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। গত রোববার নুসরাত চিকিৎসকদের কাছে দেওয়া শেষ জবানবন্দিতে বলেছিলেন, নেকাব, বোরকা ও হাতমোজা পরা চারজন তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। ওই চারজনের একজনের নাম শম্পা।

ad

পাঠকের মতামত