নুসরাতের দাবি যেন ভুলে না যাই
নিউজ ডেস্ক।। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় তার আক্রোশের আগুনে পুড়েছেন মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। টানা চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই ছাত্রী। তার মৃত্যুর খবরে ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা। তাদের স্ট্যাটাসে ছিল ক্ষোভ, প্রতিবাদ আর বিচারের দাবি।
তারা বলছেন, হাসপাতালে শুয়ে শেষ সময়ে নুসরাত দেশ ও জাতির কাছে যে দাবি জানিয়েছে, তা যেন আমরা ভুলে না যাই। নুসরাতের জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে বিভিন্ন ইভেন্টও খোলা হয়েছে। নুসরাতের মৃত্যুর পর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। দৈনিক আমাদের সময়ে নুসরাতকে নিয়ে মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘তাদের যেন শাস্তি হয়’ প্রতিবেদনের ছবি দিয়ে নিজের পেজের কাভার ছবিও পরিবর্তন করেছেন তিনি।
জুনাইদ আহমেদ পলক তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “সারা শরীরে তীব্র ব্যথা নিয়ে মেয়েটি বলেছিল-‘আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেই যাব। আমার জীবন থাকতে যে অন্যায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আমার সঙ্গে করেছেন, জীবন থাকতে সে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না…।’ ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া শরীর নিয়েই সাহসের সঙ্গে মেয়েটি বলেছে-‘আমি সারা বাংলাদেশের কাছে বলব, সারা পৃথিবীর কাছে বলব এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য। আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করব…।’ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে করতে তীব্র ব্যথা নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিল মেয়েটি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর তার ফেসবুক পেজে লেখেন-এ জড়ময় ও জরাজীর্ণ সমাজকে তুমি বুড়ো আঙুল দেখালে, ঠিকই করেছ! আমরা লজ্জিত নুসরাত। নুসরাতের মামলার আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু লিখেছেন-আইনজীবী হিসেবে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাব, এ প্রতিজ্ঞা করছি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
লেখক সাদিয়া নাসরিন লিখছেন-আমার যা হয় হোক, তার যেন বিচার হয়… কথাটার ওজন কি আমরা বুঝি? আমরা কি বুঝতে পারছি যে এই কাজটা আমাদের করতে হবে? করব আমরা? এতটুকু এতটা লড়াই একলা করতে করতে পুড়ে মরেছে মেয়েটি, বাকিটুকু আমরা পারব না? পারব না আমরা? ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষক সৈয়দা তানজিনা ইমাম লিখেছেন-নুসরাতরা চলে যায়। চলে গিয়ে বেঁচে যায়। যারা থেকে যায় তাদের দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় বন্ধুর হন্তারক আর নিজের ধর্ষককে বাঁচানোর মিছিলে। অ্যাক্টিভিস্ট শামীম আরা নীপা তাগিদ দিয়েছেন যেন এই বিচারকাজের মনিটরিং ও ফলোআপ থেকে আমরা বিচ্যুত না হই।
তিনি লেখেন-আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করব শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত…, আমি সারা বাংলাদেশের কাছে বলব, সারা পৃথিবীর কাছে বলব, এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য, আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করব…। নুসরাত জাহান রাফি মারা গেছে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে করতে…। সমগ্র দেশ, জাতি ও জগতের কাছে রাফি দাবি রেখে গেছে…। সমাজের মানুষগুলোর মানুষ হওয়ার, মানুষ করার, মানুষ জন্ম দেওয়ার শেষ সময়টাও চলে যাচ্ছে, তাও ঘুমাচ্ছে প্রাণীগুলো…! নুসরাত জাহান রাফির যৌন নির্যাতক মাওলানা সিরাজ এবং হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি পিশাচের ফাঁসির দাবি জানাই…।
নাট্যকার মাসুম রেজা লিখেছেন-নুসরাতকে বাঁচানোর জন্য সব ব্যবস্থা নিয়েছিলেন আপনারা…। তাকে বাঁচানো যায়নি…। এবার শুধু এই ব্যবস্থাটুকু করুন যাতে ইতিহাসের দ্রুততম সময়ে লোলুপ সিরাজউদ্দৌলাদের বিচার হয়…। নুসরাত জানত, তার এই পরিণতি হতে পারে, তার পরও সে সিরাজউদ্দৌলাকে কঠিন শাস্তি দিতে চেয়েছিল…। নুসরাত আত্মহত্যার পথ পরিহার করে আত্মদান করে গেল…, এ যেন ভুলে না যাই…। ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ লিখেছেন-আই ডিমান্ড জাস্টিস ফর নুসরাত। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।




