ছেলের অতিরিক্ত দুষ্টুমি, তাকে নিয়েই আত্মঘাতী মা
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় এক নারী ও শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের কাচিকাটা গ্রামের একটি বাসা থেকে তাদের লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। সম্পর্কে তারা দুজন মা ও ছেলে।এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ছেলের অতিরিক্ত দুষ্টুমির কারণে তাকে হত্যা করে নিজেও আত্মঘাতী হয়েছেন ওই নারী। তাদের নাম রেবা বেগম (৩৩) ও রাইয়ান (৩)। এ ঘটনায় নিহত রেবার স্বামী এনামুল হক লাল্টুর দীর্ঘ সময় অনুপস্থিতি সন্দেহ বাড়াচ্ছে পুলিশের। খুলনায় কাজে গেলেও স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর খবরে বাড়ি না ফেরায় তাকে সন্দেহ করছে পুলিশ।
এলাকাবাসী ও পুলিশের মারফতে জানা গেছে, উপজেলার সূর্যের হাসি ক্লিনিকের পাশেই একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন এনামুল ও রেবা দম্পতি। তাদের প্রথম সন্তান রিয়াদ (১৩) ৮ম শ্রেণির ছাত্র। ছোট ছেলে রাইয়ানকে নিয়ে রেবা বেশ চিন্তিত ছিলেন। অতিরিক্ত দুষ্টুমি, ঠিক মতো খাবার না খাওয়া ও তার বিভিন্ন কারণে বিরক্তও ছিলেন তিনি। এ কারণে তিনি মাঝে মাঝে ছেলেকে মেরে নিজেও মরবেন বলে কান্নাকাটি করতেন।
গতকাল বুধবার রাতে ঝড়ো হাওয়া শুরু হলে পাশের বাড়ির এক নারী তারে শুকাতে দেওয়া কাপড় নিতে যান। সেখানে রেবাদের কাপড়ও শুকাতে দেওয়া ছিল। বৃষ্টি শুরু হলে তাদের কাপড়গুলো ভিজতে থাকে। এ কথা জানাতে তিনি রেবার ঘরের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি ও দরজায় নাড়া দেন। কিন্তু কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে জানালা দিয়ে ডাকতে যান। এ সময় তিনি রেবা বেগমকে ফ্যানের সঙ্গে ঝোলা ও রাইয়ানকে বিছানায় পড়া অবস্থায় দেখতে পান।
তিনি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে আসে। পরে পুলিশে খবর দেন তারা। পুলিশ গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে রেবা ও রাইয়ানের লাশ উদ্ধার করে।রেবা ও এনামুলের পরিবারকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরেও এনামুলের দীর্ঘ সময় অনুপস্থিতি পুলিশের সন্দেহ বাড়িয়েছে। পুলিশ বলছে, পারিবারিক কলহের কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।মাদারীপুর সহকারী পুলিশ সুপার সোনাহার আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, মা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রেবার মা ও স্থানীয়রা বলছেন, ছেলের দুরন্তপনায় বিরক্ত হয়ে তাকেসহ আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। এদিকে নিহতের স্বামী তার বাড়িতে নেই। সব মিলিয়ে ঘটনাটি রহস্যজনক।
শিবচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ছেলের দুষ্টুমি ও মায়ের বিরক্তির বিষয়টি আমরাও জেনেছি। নিহতের স্বামী এনামুলের না থাকার বিষয়টিও আমরা দেখছি। লাশের ময়নাতদন্তর প্রক্রিয়া চলছে। একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন আমাদের সময়কে জানান, আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত এনামুলকে পাওয়া যায়নি। তার বাড়ি, শ্বশুর বাড়ি কোথাও নেই তিনি। এমনকি তার পরিচালিত বাজারের সমবায় সমিতির অফিসটিও বন্ধ। আমাদের সন্দেহ এখন তাকে ঘিরেই। তবে শিগগিরই একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।




