286291

‘আর যেন কোনো মায়ের আগুনে পোড়া সন্তানের শরীর না দেখতে হয়’

নিউজ ডেস্ক।। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন আগুন নেভাতে ২০ তলা পর্যন্ত যেন পানির ব্যবস্থা থাকেন। দেশের ফায়ার সার্ভিসের আধুনিক সরঞ্জাম ও ব্যবস্থাপনা করেন। আর যেন কোনো মায়ের আগুনে পোড়া সন্তানের শরীর না দেখতে হয়। খালি না হয় যেন কোনো মায়ের বুক। এভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন, রাজধানীর বনানীর বহুতল ভবন এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের নিহত আনজির সিদ্দিক আবীরের (২৬) মা তাশরিফা খানম তামান্না। তিনি পাটগ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। বুধবার দুপুরে পাটগ্রাম পৌর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের অগ্নিকাণ্ডে নিহত আনজির সিদ্দিক আবীরের পরিবার এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গমাতা ফুটবল খেলোয়াড়ের দল নিয়ে ঢাকা গিয়েছিলাম বিজয়ের খবর নিয়ে আসার জন্য কিন্তু ভাগ্যের কি করুণ পরিহাস ছেলের লাশ নিয়ে আসতে হবে তা কখনো কল্পনাও করিনি। ঘটনার দিন সকালে সে ফোন করে বলল আম্মু তুমি আমার বনানী অফিসে আস আমি তোমার সঙ্গে বাসায় ফিরব। আবীরের শেষ ইচ্ছা ছিল। অগ্নিকাণ্ডের দিন একটা পাঁচ মিনিটে তার ফোন বন্ধ ছিল। অফিসের ২০ সদস্যের মধ্যে ১৯ জন বের আসলেও সে শুধু আবীর বের হবে পারেনি। তাঁর ইচ্ছা ছিল প্রায় বলতো মামা আমেরিকা থেকে আসলে ডিসেম্বরে বিয়ের কথাবার্তা বলবো। আমাদের পরিবারে আলো ছিল আবীর। আবীর খুব মিসুক স্বভাবের ছিল। আল্লাহ আমার ছেলের এইটুকু হায়াত রাখছিল। ছেলেকে শেষ দেখা দেখবো বলেই মনে হয় আল্লাহ আমায় ঢাকা নিয়ে গিয়েছিলেন।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তার বাবা আবু বকর সিদ্দিক বাচ্চু প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরি করতে পারি সেখানে কেন আগুন নেভাতে ও মানুষ উদ্ধারে আধুনিক সরঞ্জাম ও ব্যবস্থাপনা নেই। তাই সার্ভিসকে উন্নত করুন। নিহত আবীর লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌর শহরের আবু বকর সিদ্দিক বাচ্চু মিয়ার ছেলে। তার মা তাশরিফা খানম তামান্না পাটগ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবীর ছিলেন ছোট। তিনি বনানীর এফআর টাওয়ারে মিকা সিকিউরিটিজ লি. কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের সময় আবীর ওয়াশ রুমে ছিলেন। ওই মুহূর্তে আবীরসহ অফিসে ছিলেন ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। আগুন লাগার খবর শুনে ১৯ জনই তৎক্ষণাৎ কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। এদিকে আবীর ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে পড়েন। সহকর্মী একজনকে মুঠোফোনে কল দিয়ে জানতে পারেন, ভবনে আগুন লেগেছে, তারা সবাই ভবন থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এ সময় আবীর আর্তচিৎকার করে বাঁচার আকুতি জানান। এর কিছুক্ষণ পর থেকে আবীরের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা আবীরের লাশ উদ্ধার করে ১৩ তলা থেকে।

ad

পাঠকের মতামত