ছেলে হত্যার দায়ে মা ও তার প্রেমিককে মৃত্যুদণ্ড
ডেস্ক রিপোর্ট।। অর্ধযুগেরও বেশি সময় পর সুনামগঞ্জে ছেলেকে হত্যার দায়ে মা ও তার কথিত প্রেমিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে রায়ে দুই আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার চিতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা সৌদিপ্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী সিতারা বেগম ও একই গ্রামের বারিক মিয়া।
এদিন রায় ঘোষণার সময় বারিক মিয়া আদালতে উপস্থিত থাকলেও পলাতক আছেন সিতারা বেগম। একই মামলায় আরেক আসামি শাবুল মিয়া শিশু হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে বিচারাধীন আছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সৌদিপ্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী সিতারা বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী বারিক মিয়ার পরকীয়ার সম্পর্ক জেনে যায় ছেলে শোয়াইবুর রহমান (১১)। বিষয়টি বাবাকে জানানোর কথা বললে বারিক ও সিতারা শোয়াইবুরকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আরেক শিশু শাবুল মিয়া শোয়াইবুরকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের চিতুলিয়া হাফিজিয়া মাদরাসায় যায়। এরপর বারিক মিয়া শোয়াইবুরকে মাদরাসার শৌচাগারের কাছে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ শৌচাগারের ট্যাংকিতে ফেলে রাখে।
এ ঘটনার এক পর্যায়ে শাবুল মূল সত্য প্রকাশ করলে পুলিশ বারিক মিয়া, সিতারা বেগম ও শিশু শাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করে। হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনার পরদিন শোয়াইবুরের চাচাতো ভাই হামজা মিয়া বাদী হয়ে এ ৩ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৩ সালের ১৫ মার্চ তিনজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এর পর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ আদালত বারিক মিয়া ও সিতারা বেগমকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেয়।




