285339

মানবদেহে অঙ্গ সংযোজনে শরীয়তের নির্দেশনা

নিউজ ডেস্ক।। বর্তমানে অঙ্গ সংযোজনের চারটি পদ্ধতি বহুল প্রচলিত। প্রথমত: জড় বস্তুর মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গসংযোজন করা। যেমন: কৃত্রিম দাঁত, শ্রবণযন্ত্র, কৃত্রিম পা প্রতিস্থাপন ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত: চিকিৎসার জন্য মানবদেহে অন্যান্য প্রাণীর অঙ্গবিশেষ প্রতিস্থাপন করা। ফুকাহায়ে কেরামের মতে, প্রথমোক্ত দুটি পদ্ধতি বিনা মতানৈক্যে বৈধ। কেননা পৃথিবীর সকল কিছুই আল্লাহ তা’য়ালা মানুষের কল্যাণের নিয়োজিত করেছেন। এরশাদ হচ্ছে: তিনি সেই সত্তা যিনি পৃথিবীর সকল কিছু তোমাদের কল্যাণে সৃষ্টি করেছেন। আল-কুরআন, সুরা বাকারা, আয়াত নং-২৯

অনত্র এরশাদ হচ্ছে: চুষ্পদ জন্তুকে তিনি সৃষ্টি করেছেন। এত তোমাদের জন্য রয়েছে শীতে বস্ত্রের উপকরণ এবং অনেক উপকার। এর থেকে কিছু সংখ্যককে তোমাদের আহারে পরিণত করে থাক । আল-কুরআন, সুরা নাহল, আয়াত নং-৫
তৃতীয়ত: নিজের অঙ্গ নিজের শরীর প্রতিস্থাপন করা। এ সম্পর্কে ফুকাহায়ে কেরাম থেকে দুটি মত পাওয়া যায়। একটি হলো নাজায়েয, (বাদায়ে সানায়ে, খন্ড-৪, পৃ.৩১৬; রওজাতুত তালেবীন,খ.৯, পৃ.১৯৭; আল-মুগনী, খন্ড-১, পৃ.৫৪৩)
অপরটি হলো জায়েয। প্রখ্যাত আলেম আল্লামা মাওয়ারদী ও ইমাম নববী রহ. এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। কেননা এতে নাজায়েযের মূল কারণ তথা মানব অঙ্গের মর্যাদা নষ্ট হওয়া পাওয়া যায় না। বরং এতে এক মর্যাদাপূর্ণ স্থান হতে অন্য স্থানে স্থানান্তরহয় মাত্র। এমতের উপরই বর্তমানে ফতোয়া। সর্বস্তরের ফুকাহায়ে কেরাম এমতই গ্রহণ করেছেন। বাদায়ে সানায়ে, খন্ড-৪, পৃ.৩১৬

চতুর্থত: মানবদেহে একে অন্যের অঙ্গ সংযোজন করা। এটা হলো এক ব্যক্তির অঙ্গ অপর ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন করা। এ সম্পর্কেও ফুকাহায়ে কেরাম থেকে দুটি মত পাওয়া যায়। তবে গ্রহণযোগ্য মত হলো, একেবারে নিরুপায় হলে কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে মানব জীবন রক্ষার্থে একজনের শরীরের অঙ্গ অপরের শরীরে প্রতিস্থাপন করা বৈধ।

শর্তগুলো হলো:১. অভিজ্ঞ ডাক্তারের সিদ্ধান্তে হতে হবে।২.যার শরীর হতে অঙ্গ নেয়া হবে তিনি জীবিত থাকলে তার অনুমতি সাপেক্ষে হতে হবে। কেননা ইসলামে মূলনীতি হলো “প্রয়োজন কখনো অপরের হককে বাতিল করে না।” ৩. যার শরীর হতে অঙ্গ নেয়া হবে তিনির আশঙ্কামুক্ত হওয়া লাগবে। কেননা ইসলামের মূলনীতি হলো “একজনকে ক্ষতি হতে বাঁচাতে গিয়ে অপরের অনুরূপ ক্ষতিতে ফেলা যাবে না।” ৪. যার শরীর হতে অঙ্গ নেয়া হবে তিনি মৃত হয়ে থাকলে জীবিত অবস্থায় এ ব্যাপারে তার অনুমতি নেয়া থাকতে হবে। “প্রয়োজন কখনো অপরের হককে বাতিল করে না।” ফিকহ একাডেমি জেদ্দা, ফিকহ একাডেমি ইন্ডিয়াসহ উপমহাদেশের মুহাক্বিক আলেমগন একমত হয়ে অঙ্গ সংযোজন জায়েযের পক্ষে তাদের মূল্যবান মত ব্যক্ত করেছেন। তবে সর্বজন স্বীকৃত একথা মনে রাখতে হবে যে, একান্ত অপারগ অবস্থায় শরীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য তা ক্রয় করা বৈধ হলেও কোন অবস্থাতাতেই তা বিক্রি করা যাবে না।

ad

পাঠকের মতামত