‘বিষ খেলে মানুষ যেভাবে ছটফট করে, ধোঁয়ায় আমরা তেমনই করছিলাম’
নিউজ ডেস্ক।। বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ দমকল বাহিনী প্রভৃতি রোববার অনস্থায়ী কণ্ট্রোল রুমে এক গুণশুনামির আয়োজন করে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে তা জানার জন্য অগ্নিকাণ্ডের ভিক্টিমরা এখানে উপস্থিত হয়েছিলো। বিবিসির
সানজানা চৌধুরী গণশুনানিতে উপস্থিত থেকে বেশ কয়েকজন ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলেন। এর মধ্যে একজন হলেন লামিয়া ইসলাম। তিনি জীবন বাচাঁতে কোনরকম পাশের ভবনে যেতে পেরেছিলেন। প্রত্যক্ষদশীর্র অভিজ্ঞতার আলোকে লামিয়া বলেন, শ্বাস নিতে না পারার কারণে অনেকে লাফ দেয়ার মতো ঝুঁকি নিয়েছেন। সবগুলো সিড়িতে ছিলো কালো ধোঁয়া। এই ধোঁয়ায় আমরা ছটফট করেছিলাম। মানুষ বিষ খেলে যেমন ছটফট করে আমরা তেমনই করছিলাম।
লামিয়ার এক সহকর্মী হলেন আনিছুর রহমান। তার মতে এতোদিন ধরে এই অফিসে কাজ করছি একদিনেও মালিক ফায়ার ড্রিল করেননি। অথচ অগ্নিনির্বাপক কিছু সরঞ্জাম ছিলো বটে। তিনি বলেন, মালিক লাখ লাখ টাকা ভাড়া নিচ্ছেন অথচ তত্ত্বাবধায়নের মানসিকতা তাদের মধ্যে সব সময় ছিলো অনুপস্থিত।
সরকারের গণশুনানির সঙ্গে যুক্ত কাজী নাহিদ বলেন, আমরা ভিকটিমদের সঙ্গে কথা বলে মূলত আগুনের সূত্রপাত জানতে চেয়েছিলাম। উৎস অনুসন্ধান শেষ হলে পরবর্তী করণীয় আমরা নির্ধারণ করবো। তিনি বলেন, তদন্ত চলছে বলে তিনি তেমন কোন মন্তব্য করতে চান না।
এদিকে লামিয়া কাজে ফিরে গেছেন। কিন্তু তার মধ্যে এখনো ব্যাপক আতঙ্ক। বিবিসিকে বলেন, মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে এসেছি এটিই সবচেয়ে বড় কথা।
এদিকে বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদী আহমদ আনসারি একটি টিমের সঙ্গে রোববার ভবনটি পরিদর্শন করেন। তার মতে, ভবনে আগুন নেভানোর সরঞ্জাম ছিলো অপ্রতূল। ফায়ার ডোর থাকা বহুতলে বাধ্যতামূলক। সরঞ্জমাদি থাকলেই হবে না সেগুলো ব্যবহার করার মতো পরীক্ষিত কর্মী বাহিনীও দরকার। কখনোই ভবনে প্রশিক্ষণ হয়নি বলে শুনেছি এবং হওয়ার কোন লক্ষণও চোখে পড়েনি। তিনি জানান, বনানীর ৫/৬ শত ভবন মালিককে নিয়ে রোববার মেয়র বৈঠক করেন। আশার কথা হলো তারা নানা ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।




