‘জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলুন’
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলার জন্য গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এ ঘটনা ঘটে।অনুষ্ঠানে ড. কামাল হোসেন বক্তব্য শুরু করলে, দর্শক সারি থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া- লও লও লও সালাম’। এ সময় তিনি বক্তব্য থামিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন।এসময় দর্শক সারির শুরুতে থাকা বিএনপির একজন নেতা বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, এ কথা বলতে হবে। এর সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই নেতাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন। তবে এরপরও কয়েক সেকেন্ড স্লোগান চলে।
এর মিনিট চারেক পর গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু ড. কামালের কাছে এসে তার কানে কানে কিছু কথা বললে তিনি মন্টুকে ধমক দিয়ে বলেন, কেনো কথা বলছো, আমি যা বলেছি, তাই বলবো। এর বাইরে একটি কথাও বলবো না। আর আমি তো সকল বক্তার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছি। তবে মন্টু ড. কামাল হোসেন কানে কানে কি কথা বলেছেন তা জানা যায়নি।এদিকে কামাল হোসেনের বক্তব্য শেষ হওয়ার আগে বিএনপির নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের নামে ফের স্লোগান দিতে শুরু করেন।
সভায় কামাল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে বিতর্কের কোন অবকাশ নেই। যাদুঘরে গিয়ে দেখেন, বঙ্গবন্ধু যে জাতির পিতা, উনার নেতৃত্বে যে স্বাধীনতার সংগ্রাম হয়েছিল এবং দেশ স্বাধীন হয়েছিল। আর সেই মর্যাদা নিয়ে উনি এখনও আছেন এবং থাকবেন। উনাকে নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে না।জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐক্য আছে। এটাকে আরো সুসংগঠিত করতে হবে। আর ঐক্যকে সুসংগঠিত করে, এখান থেকে যেসব দাবিগুলো উঠেছে, সেগুলো আমরা অর্জন করবো।
কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুল রব, নাগরিক ঐক্যে আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, গণফোরামের নির্বাহী কমিটির সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।




