284421

আসামী শিরিন পলাতক, তাই নিরপরাধ রেখাকে জেলে নিলো পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট : মামক মামলায় ২ বছরের সাজা হয়েছে যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া ইসমাইল কলোনি এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী শিরিন বেগমের। কিন্তু পুলিশ শিরিন বেগমের পরিবর্তে শহিদুল ইসলামের সাবেক স্ত্রী রেখা খাতুনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। শহিদুল ইসলামের দাবি, পুলিশ শিরিন বেগম মনে করে রেখা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে, রেখা নির্দোষ। তবে পুলিশের দাবি, সঠিক আসামিকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। যুগান্তর।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০৫ সালের হেরোইন উদ্ধারের এক মামলায় ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট শিরিন বেগমকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৪ মাস সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন জেলা জজ আদালত। এ মামলায় শিরিন বেগমের স্বামী শহিদুল ইসলাম খালাস পান। শিরিন বেগম পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। প্রায় আড়াই বছর পর ২০ মার্চ ওই মামলায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ শহরের রায়পাড়া এলাকা থেকে শিরিন বেগম মনে করে রেখা খাতুনকে গ্রেফতার করে। ওইদিনই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। রেখা খাতুন ঝিনাইদহ শহরের শহীদ মশিউর রহমান সড়কের বাসিন্দা লাল্টু শেখের মেয়ে ও যশোর শহরের ডালমিল এলাকার ভাড়াটিয়া।

এদিকে শিরিন বেগমকে নয়, রেখা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে- এমন দাবি করে ২৪ মার্চ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতে রেখা খাতুনের পক্ষে আবেদন করেন আইনজীবী আবুদস সহিদ। বিচারক শুনানি শেষে বিষয়টি পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।

আইনজীবী আবদুস সহিদ বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি শিরিন বেগম বিদেশে রয়েছেন। তার পরিবর্তে রেখা খাতুনকে গ্রেফতার করে শিরিন দাবি করা হয়েছে। নিরাপরাধ ব্যক্তি কারাগারে সাজা খাটছেন। সাজাপ্রাপ্ত শিরিন বেগমের আইনজীবীও আমি ছিলাম। আমি নিশ্চিত রেখাকে শিরিন বেগম হিসেবে সোপর্দ করা হয়েছে। তাই আমি চ্যালেঞ্জ করেছি। এর সপক্ষে রেখার পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও আদালতে জমা দিয়েছি।

শিরিন বেগমের স্বামী শহিদুল ইসলাম বলেন, ওই মামলায় আমিও আসামি ছিলাম। আমি খালাস পেয়েছি। শিরিনের সাজা হয়েছে। শিরিন বর্তমানে লেবাননে থাকে। পুলিশ রেখা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে, কিন্তু রেখা খাতুন নির্দোষ। তিনি আরও বলেন, রেখার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল ২০০৯ সালের দিকে। ২০১২ সালের দিকে ডিভোর্স হয়ে যায়। সে তার মতো থাকত চাঁচড়া ডালমিল এলাকায়। পুলিশ শিরিন বেগম দাবি করে, রেখা খাতুনকে আটক করেছে। তবে শিরিন বেগম লেবাননে আছেন- এমন কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি শহিদুল ইসলাম।

রেখা খাতুনের মেয়ে সাহিদা আক্তার রানী বলেন, মা সকালে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার রাস্তা থেকে পুলিশ তাকে আটক করেছে। মা এখন জেলে। কিছুই বুঝতে পারছি না, কোথায় যাব, কি করব।তবে আদালতের পরোয়ানা তামিলকারী কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার ও উপ-পরিদর্শক আমিরুজ্জামান বলেন, সাজাপ্রাপ্ত শিরিন বেগমকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি নাম পরিবর্তন করে রেখা খাতুন হিসেবে চলছেন। ঠিক আসামিকেই গ্রেফতার করেছি। আদালতে সেটি প্রমাণ করে দেব।

ad

পাঠকের মতামত