284169

অবশেষে সেই স্কুল শিক্ষক গ্রেপ্তার

রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাজেক ইউনিয়নের ছয়নাল ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুখ আহমদ তালুকদার বিপু অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এমাদুল ও তার স্ত্রী সাজিয়া আক্তারের উপর হামলা ও ছিনতাই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বুধবার বনরূপায় রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার বিপুর বিরুদ্ধে থানায় অনেক অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, বিপু রাঙামাটি শহরের পুরানবস্তি এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ তালুকদারের ছেলে। তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।কিন্তু তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা না করে এর বদলে শহরে অবস্থান করে সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, অর্থের বিনিময়ে হামলার নেতৃত্ব দেওয়া, অন্যের স্ত্রী ভাগিয়ে নেওয়া, প্রয়োজনে স্বামীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকাছাড়া করাসহ আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ যে মামলায় বিপু গ্রেপ্তার হন, এ মামলার বাদী এমাদুল বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে শেভরনে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম। এ সময় বিপু ও আরো কয়েকজন এসে আমাকে এলোপাতাড়িভাবে পেঠাতে থাকে।এ সময় আমার সঙ্গে থাকা আমার স্ত্রী আমাকে বাঁচানোর চেষ্ঠা করলে তাকেও চড় থাপ্পর মেড়ে এবং শ্লীলতাহানি করে বিপু। এসময় আমার কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয় তারা।এসব নানান অপরাধে একাধিকবার পুলিশের হাতে আটক হলেও আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা ছেলের নাম ভাঙিয়ে বিপু বেড়িয়ে আসেন।

বিপু বিভিন্ন সময় জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে ছবি তুলে রাখেন। এবং অপকর্ম ঢাকতে প্রয়োজনমত এগুলো ব্যবহার করেন।রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেক। এগুলোর সবকিছু তদন্তের আওতায় আনা হবে। তাকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, সে সময়ও একটি হামলার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বিপু। পরে হাতেনাতে তাকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছয়নাল ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, তিনি যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, তাকে বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থীই চিনে না। বিপুকে তাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়।

তিনি সব সময় সাথে ছুরিসহ ধারালো কিছু রাখে, তাই তার বিরুদ্ধে আমরা কেউ কথা বলি না বরং সে স্কুলে না আসলে আমরা নিরাপদ বোধ করি।বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আমাদের কাছে আছে। একাধিক লোককে ছুরিকাঘাত করেছেন তিনি। এগুলোর প্রত্যকটির সত্যতা আছে। এতে বুঝা যায় লোকটা কতটা অস্বাভাবিক।

তিনি আরো জানান, বিভিন্ন অভিযোগে একাধিকবার তার বেতন বন্ধ করে দেওয়া হলেও তার আচরণের কোন পরিবর্তন হয় নি। ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রশ্রয়ে থেকে তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকেও সরাসরি হুমকি দেন।বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বলেন, এর বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিলে আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সুপারিশে তা থেকে মুক্তি পায়।

ad

পাঠকের মতামত