জেমি-রুমকি স্বপ্ন বুনছিলেন অনাগত সন্তান নিয়ে
নিউজ ডেস্ক।। বনানীর এফআর টাওয়ারে লাগা আগুনে মৃত্যু হয়েছে মাকসুদার রহমান জেমি (৩১) ও রুমকি বেগম (২৮) দম্পতির। তারা দুজনেই একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি করতেন। ওই ভবনেই ছিল তাদের অফিস। রুমকি ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। জেমি পুরান ঢাকার গে-ারিয়ার মিজানুর রহমানের ছেলে। আর রুমকির বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায়। তিনি কৈমারী ইউনিয়নের আশরাফ আলীর মেয়ে। রুমকির মেজো ভাই স্কুলশিক্ষক রওশন আলী রনি জানান, চার বছর আগে জেমির সঙ্গে রুমকির বিয়ে হয়। ১৭ মার্চ মোবাইল ফোনে ছোট বোনের সঙ্গে তার কথা হয়। তিনি বলেছিল, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বেড়াতে আসবেন।
কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, আগুনের লেলিহান শিখায় স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। সঙ্গে চলে গেল গর্ভের সন্তানটিও। বিন্যাকুড়ি গ্রামে এখন শোকের ছায়া। বুকের ধন একমাত্র মেয়ে ও জামাইকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বৃদ্ধ আশরাফ আলী। পাঁচ মাস আগে রুমকির মা মারা যান। আশরাফ বলেন, ‘বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ, এটি যে কতটা কষ্টের তা আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি।
আমার কপালে এমনটা লেখা ছিল ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। মেয়ে বলেছিল, রোজার আগেই জলঢাকায় দেখতে আসবে আমাকে। ভাগ্যের লিখন সে রোজার আগেই এলো, কিন্তু লাশ হয়ে। আমার খোঁজ খবর এখন আর কে নেবে?’ মকির চাচাতো বোন জয়া বেগম বলেন, ‘রুমকির শিক্ষাজীবন ও বিবাহিত জীবন ঢাকায়। ট্রাভেল এজেন্সিতে স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করতো। রুমকি এফআর টাওয়ারের ১০ তলায় আর আমার ভগ্নিপতি ১১ তলায় কর্মরত ছিল। শুনেছি জীবন বাঁচাতে ১১ তলা থেকে লাফ দিতে গিয়ে ঘটনাস্থলে জেমির মৃত্যু হয়। আর রুমকি কালো ধোঁয়া ও গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায়।’




