‘রাজপাড়ার ছেলেদের কারণে আমি মারা গিয়েছি’
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: যৌন নির্যাতন সইতে না পেরে ছাত্রী চাঁদনী আক্তার মুন্নী নামে এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যার আগে সে একটি চিরকুট লিখে গেছে, যাতে সে বখাটেদের দায়ি করে গেছেন। নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী কুষ্টিয়া সর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের কাতলাগাড়ি গ্রামের হেকমত আলীর মেয়ে। মুন্নী কেবিএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন। গ্রামের বাড়ি ফিরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন মুন্নী। আত্মহত্যার আগে বাবাকে লেখা চিরকুটে চাঁদনী লিখে যায়, আমি যদি মরে থাকি তাহলে তুমি মনে করবা রাজপাড়ার ছেলেদের কারণে আমি মারা গিয়েছি।
শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মুন্নীর ময়নাতদন্ত করেন চিকিৎসকরা। মুন্নীর পরিবারের অভিযোগ বখাটেদের দ্বারা যৌন হেনস্থা হয়ে বাড়ি ফিরে এসে আত্মহত্যা করে মুন্নী। এ ঘটনায় মিরপুর থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত কোন বখাটেকে গ্রেফতার করতে পারেনি। মুন্নীর চাচাতো ভাই সুজন জানান, আমার এক চাচাতো বোনের বিয়ে ছিল শুক্রবার। এ জন্য মুন্নী তার আরেক চাচাতো বোনকে সাথে নিয়ে পাশেই আমলা বাজারে ফুল কিনতে যায়। এ সময় এলাকার বখাটে জয়নালসহ তার ৪/৫ জন বন্ধু তাকে যৌন হয়রানি করে।
মুন্নির চাচা হাসেম আলী অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার আমার বড় ভাইযের মেয়ের বিয়ে। এজন্য আমার সেজো ভাইয়ের মেয়ে মুন্নি এবং আমার মেয়ে আমলা বাজারে ফুল কিনতে যায়। এসময় আমলা বাজার থেকে এলাকার বখাটে জয়নাল প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে আমলা ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে।
এসময় তাকে আমলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এএসআই আশরাফ মুন্নিকে উদ্ধার করে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য রেজেলা খাতুনের কাছে হস্তান্তর করে। আমলা থেকে তার নিজ বাড়ী কাতলামারীতে আসার সময় পথিমধ্যে অটো গাড়ির গতিরোধ করে কাতলামারী এলাকার আরোবিয়ার ছেলে জয়নাল, আনছের আলীর ছেলে মিঠুন, রেজন আলীর ছেলে আঙ্গুর, নাসের রাজের ছেলে রাজু এবং আফতার আলীর ছেলে পারভেজ। তারা জোর করে মুন্নিকে পার্শ্ববর্তী সাদিমনের বাড়ীতে নিয়ে যায়। এর পরেই মুন্নি বাড়ীতে এসে আত্মহত্যা করে। আমলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এএসআই আশরাফ জানান, দুপুরে আমলা আলু ভিত্তি বীজ উৎপান খামারের সামনে থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে হস্তান্তর করি




