ওমরা শেষে অফিসে, বনানীর আগুনে প্রাণ গেল পারভেজের
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: সৌদি আরবে সপরিবারে ওমরা পালন শেষে ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় ফেরেন পারভেজ সাজ্জাদ। দুই দিন পর বৃহস্পতিবার বনানীর এফ আর টাওয়ারের অফিসে কাজে যোগ দেন। এর কিছুক্ষণ পরেই আগুনে পুড়ে মারা যান তিনি। আগুন লাগার পরে স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে শেষবারের মতো মোবাইল ফোনে পারভেজ বলেন, ‘আমাদের অফিসে আগুন লেগেছে। কি হয় বলা যায় না। আমার জন্য দোয়া করো। অন্যদেরও দোয়া করতে বলো। এর কিছুক্ষণ পর আর তার মোবাইলে তাকে পাওয়া যায়নি।’
বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর বলুগ্রামে পারভেজ সাজ্জাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। রাতেই এলাকার লোকজন এসে তাদের বাড়িতে এসে ভিড় জমায়। শুক্রবার সকাল ১০টায় বাড়ির মসজিদের পাশে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। মো. পারভেজ সাজ্জাদ কাশিয়ানী উপজেলার মাহেশপুর ইউনিয়নের বলুগ্রাম গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন। গ্রামে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য তিনি জায়গা দিয়েছেন। নিজের অর্থে এলাকায় অনেক উন্নয়নও করেছেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে পারভেজ সাজ্জাদ ছিলেন দ্বিতীয়। তিনি ওই টাওয়ারের ১১ তলায় অবস্থিত শ্রীলংকা ভিত্তিক স্কীন ওয়েল কোম্পানিতে সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ছোট ভাই পারভেজ খসরু জানায়, বাবা-মা মারা যাবার পর সবকিছুই তার বড় ভাই দেখাশোনা করতেন। ভাই ভাইয়ে সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো। নিহতের একমাত্র ছেলে সিয়াম মৃধা এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। ওই দিন সকালে বাবা-ছেলে অন্য কাজে বেরিয়ে ছিলেন। কাজ শেষ করে ছেলেকে বাসায় রেখে তিনি অফিসে যান। এটাই তার শেষ যাওয়া হবে এটা কি আর তিনি ভাবতে পেরেছিলেন? বাবা-ছেলের সঙ্গে এটাই শেষ দেখা।
পাশের গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন, কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের বলুগ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মধ্যে এমন ভালো মানুষ খুব বেশি নেই। আমরা একজন মানুষ নয়, একটি রত্ন হারালাম। নিহত পারভেজ সাজ্জাতের ভগ্নিপতি বেলায়েত হোসেন বলেন, সাজ্জাদ অনেক ভালো মনের মানুষ ছিলেন। আত্মীয়-স্বজন পাড়া প্রতিবেশীসহ সবার সঙ্গে সু-সম্পর্ক বজায় রেখে চলতেন। ওর এভাবে চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছে না।
পারভেজ সাজ্জাদের চাচা কুদ্দুস মৃধা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে আমরা খবর পাই, সাজ্জাদ মারা গেছেন। ওর মৃত্যুর খবরটি মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বহু মানুষ রাত থেকেই আমাদের বাড়িতে আসতে থাকে সাজ্জাদকে শেষবারের মতো দেখবেন বলে। গভীর রাতে ওর মরদেহ যখন বাড়িতে পৌঁছায়, তখন চারিদিকে শোকের আবহ। ছোট-বড় সবার প্রিয় মানুষ ছিলেন সাজ্জাদ।




