283789

আগুন লাগা এফআর টাওয়ারে উপরের ৪টি ফ্লোরের সিঁড়ি সবসময় তালাবদ্ধ থাকতো

বনানীর এফআর টাওয়ারের ২০ থেকে ২৩ তম উপরের চারটি ফ্লোরের (২০ থেকে ২৩ তলা) সিড়িতে সবসময় তালাবদ্ধ রাখা হতো বলে জানা গেছে। দূর্ঘটনার সময় অগ্নিদূর্গতরা এই তালার কারনেই জীবন বাঁচাতে ছাদে আশ্রয় নিতে পারেনি বলে নিশ্চিত করেছে দূর্ঘটনা কবলিত লোকজন। জানা গেছে, ভবনটির জমির মালিক ইন্জিনিয়ার ফারুক ও রুপায়ন গ্রুপ যৌথভাবে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভবনটিকে একটি ১৮ তলা ভবন নির্মানের জন্য নকশা অনুমোদন করান রাজউক থেকে। নির্মান কাজ শেষ হলে ভবনটি ২০ তলাতে দৃশ্যমান হয় সবার কাছে। এরপরেই ভবনটির ২০ তম তলাটি বিক্রি করা হয় জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ প্রয়াত মইদুল ইসলামের কাছে। মইদুল ইসলামের কাছ থেকে ফ্লোরটি কিছুদিন পরেই কিনে নেন কাশেম গ্রুপ। আর এই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি সভাপতি তাসভীর উল ইসলাম।

কিছুদিন পরেই কাশেম গ্রুপের ব্যপস্থাপনা পরিচালক ও বিএনপি নেতা তাসভীর উল ইসলাম কোনোরকম নিয়মের তোয়াক্কা না করে ছাদের উপরে আরো তিনটি ফ্লোর নির্মাণ করেন এবং নিজের প্রতিষ্ঠান চালু করেন। ভবনটির ওপরের অননুমোদিত অন্তত চারটি ফ্লোর মাড়িয়ে কেউ যেন ছাদে উঠতে না পারে, সেজন্য তালাবদ্ধ রাখা হতো সার্বক্ষণিক। বৃহস্পতিবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর বেরিয়ে আসছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এদিকে নথিপত্র দেখে রাজউক সূত্র বলছে, ভবনটির মালিকপক্ষ ২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজউকের কাছে যে নকশা পেশ করেছিলো তা ১৯৯৮ সালের মূল নকশার সাথে মিল ছিলো না। জোট সরকার আমলে রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ার ভবনটি পুনরায় ৪ তলা বর্ধিত করার সময় ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডও মানা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে রাজউক।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্ল্যানিং) সিদ্দিক মো. জুলফিকার আহমেদ এ বিষয়ে গণমাধ্যমে জানান ২২-তলা এই বিল্ডিংয়ে ফায়ার ফাইটিংয়ের নিজস্ব কোনও ক্যাপাসিটি ছিলো না। কয়েকটি ফ্লোরে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিছু সরন্জাম থাকলেও তা ছিলো অকার্যকর। এমনকি বিল্ডিং কোডও অনুসরন করা হয়নি ভবনটিতে। ভবনের ইমার্জেন্সি এক্সিটের গেট তালাবদ্ধ ছিল। যেসব কারনে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভবনটির ১৩ তলায় থাকা ডার্ড নামে একটি পোশাক কারখানার কর্মী শফিকুল গনমাধ্যমে অভিযোগ করেন, “সিকিউরিটি যখন বাঁশিতে ফুঁ মারছে, তখন সিঁড়ি দিয়া প্রথমে সাততলায় আইছি। আসার পর দেখি নামার মতো আর কোনো পথ নাই। ডাইরেক্ট উপরে উঠতে গিয়ে দেখি গেইটে তালা মারা”

এদিকে জমির মালিক আর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও দ্বন্দ্ব ছিলো বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই দ্বন্দের জেরে ছাদটাও মালিকানার ভিত্তিতে ভাগ হয়েছে। সেখানে এখন সিকিউরিটিদের থাকার জায়গা করা হয়েছে। সাথে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ১০ ফুট উঁচু দেয়াল। যার কারনে হেলিকপ্টার দিয়ে ছাদে থাকা লোকজনকে সরিয়ে আনতে গেলেও তা সম্ভব হয়নি। দেশ রিভিউ।

ad

পাঠকের মতামত