283130

যত কিছুই হোক, সংসদে বাংলায় বলবো: দেব

বিনোদন ডেস্ক।। বাংলা চলচ্চিত্রের যে সব সেলিব্রিটি গতবার বিজয়ী হয়েছিলেন তাদের অনেককে বাদ দেয়ার গুঞ্জন প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে শোনা গেলেও দেবকে বাদ দেয়ার কথা কেউ শোনেনি। প্রত্যাশা মতোই দ্বিতীয়বারের জন্য জনপ্রিয় অভিনেতা দেব ওরফে দীপক অধিকারীকে প্রার্থী করা হয়েছে। এই ঘোষণায় মেদিনীপুরের ঘাটাল কেন্দ্রে গতবারের মতোই প্রবল উচ্ছ্বাস। সেলিব্রিটি হওয়ায় নিজের কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সময় না দেয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে ঠিকই। তবে লোকসভায় ঘাটালের সমস্যা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে সাংসদ তহবিলের প্রায় পুরো অর্থই দেব ঘাটালের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করেছেন।

তবে দেব স্বীকার করে নিয়েছেন, যতটা সময় দিয়েছি তার চেয়ে আরো বেশি সময় দেয়া উচিত ছিল। কয়েকদিনের দেরিতে ঘাটালে এসে প্রচারে নামার আগেই নেতা-কর্মীদের দিয়ে শপথ করিয়ে নিয়েছেন, গতবারের চেয়েও জয়ের ব্যবধান বাড়াতে হবে। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ ভোটের ব্যবধানে প্রার্থীকে জেতাতেই হবে। এ ব্যাপারে দেব নিজেও আশাবাদী। মানুষের কাছে গিয়ে দেব বলছেন, আবার সুযোগ পাব ভাবিনি। আপনাদের আশীর্বাদেই গতবার জিতেছিলাম। এবারও আপনাদের আশীর্বাদ চাই। তবে প্রচারে দেব জোর দিচ্ছেন সংসদে দাঁড়িয়ে বাংলায় বলার বিষয়টি। গতবার সংসদে ঘাটালের বন্যা নিয়ন্ত্রণে মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে বাংলায় বক্তব্য রেখেছিলেন। তা নিয়ে গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এবার জিতলেও তিনি যে সংসদে বাংলাতেই বলবেন সেটিই ভোটারদের কাছে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরছেন। আবেগের সঙ্গে দেব প্রচারে বলছেন, আমি বাংলার ছেলে। তাই সংসদে বাংলায় বলতে লজ্জা নেই।

২০১৪ সালে ঘাটাল কেন্দ্রে দেবের নাম যখন প্রস্তাব করা হয়েছিল তখন অনেকেই ভুরু কুঁচকেছিলেন। কিন্তু তিনি কংগ্রেসের মানস ভুইঞা এবং বামপন্থি সন্তোষ রানার মতো প্রার্থীদের আড়াই লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন। এবার অবশ্য মানস ভইুঞা তৃণমূল কংগ্রেসে। তিনি এবার পাশের কেন্দ্রেই দলের প্রার্থী হয়েছেন। ফলে দেবের সুবিধা হবে বলেই ধারণা স্থানীয় নেতাদের। দেব অবশ্য মনে করেন, তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সব প্রার্থীই হেভিওয়েট। কিন্তু এবার দেবকে কঠোর লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। বামপন্থিরা এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা তপন গঙ্গোপাধ্যায়কে। আর বিজেপি ঘোষণা করেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার আইপিএস ভারতী ঘোষের নাম। এক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ এই ডাকসাইটে পুলিশ কর্তা এলাকা চেনেন ভালোভাবেই। তাই তিনি লড়াইকে কঠিন করে তুলবেন বলেই অনেকে মনে করছেন। আবার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ভোট কাটাকাটি করে দেবেরই সুবিধা করে দেবেন।

দেব অবশ্য বিরোধী প্রার্থীদের টুইট করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বলেছেন, আমরা যেই জিতি বা হারি, সবাই একসঙ্গে ঘাটালের মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে থাকবো। ঘাটালের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবো। আমাদের মতবিরোধ যেন উন্নয়নের অন্তরায় না হয়। দেবের এই বিনয়ে মানুষ খুশি। রাজনীতিতে দেব ৫ বছর আগে নবাগত হলেও এই কয় বছরে যে তিনি অনেক শিখেছেন সেটা জানিয়েছেন নিজেই। দেব ২০০৬ সালে রূপালি পর্দায় নায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও প্রথমটা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। পরে অবশ্য ‘আই লাভ ইউ’ ছবি দিয়ে জয়যাত্রার শুরু। নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে তাকে লড়াই করতে হয়েছে। এখন দেব টলিউডে সবচেয়ে দামি অভিনেতা। নিজে প্রযোজনাও করেন। রাজনীতিতে সময় দিলেও চলচ্চিত্রের কাজ তিনি পাল্লা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরাগী এই অভিনেতা মনে করেন, রাজ্যে ৬-৭ বছরে যে কাজ হয়েছে, তা কোনো রাজ্যে কোনো দল ৭০ বছরেও করতে পারবে না। এই উন্নয়নকেই গুরুত্ব দিয়ে দেব প্রচার করছেন।

এখন দেব রাজনীতির ভাষাতেই কথা বলতে শিখে গিয়েছেন। আর এই রাজনীতিকে কাজে লাগিয়ে যে ছবি বানাচ্ছেন সেটাও জোরের সঙ্গে বলেছেন। দেবের কথায়, রাজনীতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যে সমস্ত ছবি করছি, তাতে অভিনবত্ব রয়েছে। প্রযোজকরা তাই আমাকে দায়িত্ব দিচ্ছেন নতুন ধরনের ছবি করতে। তবে গতবার প্রথম প্রার্থী হিসেবে ঘাটালে পা দেয়ার পর দেবকে নিয়ে যে উন্মাদনা ছিল মানুষের মধ্যে এবার তা অনেক কম। সেই উপচে পড়া ভিড়ের এখনো দেখা মিলেনি। বাম-বিজেপি’র দাবি, পাঁচ বছরের আগের সে দিন যে আর নেই, প্রচারে এলে দেব দিব্যি তা টের পাবেন। কারণ, মানুষ তারকাদের সিনেমায় দেখতেই ভালোবাসেন। আর ভোটের ময়দানে এমন মানুষকে চান, যিনি কাছের লোক, কাজের লোক, যিনি বছরভর পাশে থাকবেন। বিরোধীদের এসব কথায় কান দিতে রাজি নন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেব। তবে তিনি মনে করেন, আত্মসন্তুষ্টির কোনো জায়গা নেই। দলীয় কর্মীদের তিনি প্রথমেই বলে দিয়েছেন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ভালো নয়। নির্বাচনের ফল প্রকাশ পর্যন্ত আমাদের একশ’ শতাংশ দিতে হবে।

ad

পাঠকের মতামত