শিক্ষিকা স্ত্রীকে বদলি করাতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে এমপির ভাতিজা পরিচয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাহিদা ইয়াসমীনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। লাঞ্ছনার শিকার নাহিদা ইয়াসমীন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, শেরপুরের হেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জামালপুর সদরের ছোনটিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় অথবা শীলকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির জন্য বিভাগীয় উপ-পরিচালক বরাবর আবেদন করেন।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে এমপির ভাতিজা পরিচয়ে মতি মিয়া, সহকারী শিক্ষিকা নিউজি আক্তার ও তার স্বামী শাকিল আসেন। তারা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে জেলা শিক্ষা অফিসে বদলির প্রস্তাবনা পাঠানোর জন্য চাপ দেন।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাহিদা ইয়াসমিন নিয়মবর্হিভুত প্রস্তাবনা পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অশালীন আচরণসহ লাঞ্ছিত করেন এমপির ভাতিজা পরিচয়দানকারীরা।
অফিস ত্যাগের সময় উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বান্দরবানে বদলিরর হুমকি ও সহকারী শিক্ষা অফিসার জুলফিকার আলীকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়।খবর পেয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে ছুটে যান।এমপির ভাতিজা পরিচয়দানকারী মতি মিয়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই বদলির প্রস্তাবনার কথা শিক্ষা অফিসারকে বলেছি। লাঞ্ছনার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
জেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লাঞ্ছিতের ঘটনা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বদলির আবেদনকারী নিউজি আক্তার ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন বিধায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে তা তিনি জেনেছেন। এ ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাক তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে শিক্ষা কর্মকর্তাদের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।




