278596

প্রধানমন্ত্রীকে আপা বলতে চাইনি, মুখ থেকে শব্দটা বের হয়েছে : নুর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সামনাসামনি দেখে তার মাঝে ছোটবেলায় হারানো মায়ের চেহারা ‘খুঁজে পেয়েছেন’ বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূর। তবে তিনি না চাইতেও প্রধানমন্ত্রীকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেছেন।নুর বলেন, ‘আড়াই বছর বয়সে আমার মা মারা যায়। আমার মায়ের যতটুকু মনে করতে পারি সেটা খুঁজে পেয়েছিলাম আমার প্রাইমারির একজন শিক্ষিকার মধ্যে। আর আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখে আমার মনে হয়েছে যে, তার মধ্যে আমার মায়ের চেহারাটা আমি খুঁজে পেয়েছি।’

তবে শেখ হাসিনাকে ‘আপা’ সম্বোধন করে এর ব্যাখ্যা দিয়ে নূর বলেন, ‘আমি শুধু ছাত্রলীগের কর্মীই ছিলাম না, ছোটখাট একটা নেতাও ছিলাম, পোস্টেড ছিলাম। আমি বিভিন্ন গ্রোগ্রামে গিয়েছি। আমি দেখেছি নেত্রীকে। তাকে আমি আপা বলতে চাইনি। আমি মায়ের ওই জায়গাটাতেই থাকতে চেয়েছিলাম। সবাই, সবাই আপা বলে এজন্য আমার মুখ থেকেও শব্দটা বের হয়েছে।’

আজ শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে যান ডাকসু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল সংসদের নবনির্বাচিত নেতারা। সেখানেই নিজের বক্তব্যে কথাগুলো বলেন ডাকসুর ভিপি পদে বিজয়ী নূর।তিনি বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, যার নেতৃত্বে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিত এবং তার লিডারশিপের কারণে আমরা দেখেছি যে, বিশ্বের বড় বড় নেতাদের মাঝে তার স্থান করে নিতে পেরেছেন।’

নুর আরও বলেন, ‘২৮ বছর পরে ডাকসু নির্বাচন দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। তিনি রিস্ক নিয়েছেন। কারণ ১৯৯০ পরবর্তী যে সরকারগুলো এসেছে তারা কেউ ডাকসু নির্বাচনের রিস্ক নিতে চাননি।’এ সময় শেখ হাসিনার প্রশংসা করে নূর বলেন, ‘কখনো আমরা তাকে দেখেছি যে ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে একজন নারীর ভূমিকায়, আবার কখনো আন্দোলন-সংগ্রামে তার কৃতিত্বের কথা আমরা শুনেছি। আর বঙ্গবন্ধুর কথা শুধু আমরা না, সারা বিশ্বের মানুষ জানে।’

ডাকসুর ভিপি আরও বলেন, ‘আমরা একটি কথাই বলতে চাই যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কখনো অন্যায়ের পক্ষ নেয়নি। সব সময় ন্যায়ের পক্ষেই ছিল। দেশের সকল মঙ্গলের পক্ষে ছিল। তার সব মঙ্গল কাজের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা থাকবে। ডাকসুর নবনির্বাচিত আমরা যারা রয়েছি তার সেই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা সহযোগিতা করব।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে নুর বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে প্রধান সমস্যাটা হল আবাসিক সমস্যা। আপনি এটার প্রতি একটু সদয় দৃষ্টি দেবেন। আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব, আপনি বাংলাদেশকে যেভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আপনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন ডাকসুসহ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন, সেটা আপনি কার্যকর করবেন।’

বক্তব্য শেষে কদমবুসি করার আগে নূর বলেন, ‘আসলে প্রধানমন্ত্রীর অনেক প্রটোকল। আমার প্রথমেই ইচ্ছা ছিল যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আগেই সালাম করা। কিন্তু তার নিরাপত্তারক্ষীরা রয়েছে। তাতে বিঘ্ন ঘটবে কি না এজন্য যাইনি। যেহেতু আমার মা নাই, আমি বলেছি, আমার সেই মাতৃত্বের ছায়াটা নেত্রীর মধ্যে।’

কথাগুলো বলার পর প্রধানমন্ত্রীর পায়ে হাত দিয়ে সালাম করেন নূর। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। বক্তব্যের আগে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে সামনের সারিতে বসে থাকলেও বক্তব্যের পর নূরকে ডেকে প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসানো হয়।

ডাকসুর নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের ডাকসুর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জীব চন্দ্র দাস। এরপর বিভিন্ন হল সংসদের ভিপিরা, ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন ও ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন বক্তব্য দেন।সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়

ad

পাঠকের মতামত