278249

উপ-উপাচার্যের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা

নিউজ ডেস্ক।। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ক্যাম্পাসে ‘ভুখামিছিল’ করেছেন অনশনে থাকা প্রার্থীরা। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হওয়া এ মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। মিছিলে তিন অনশনকারী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেনÑ শোয়েব মাহমুদ, আল মাহমুদ ত্বাহা ও মীর আরাফাত মানব।

ভুখা মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে ভিসি চত্বর, মূল চত্বর, কলা ভবন শ্যাডো, কলা ভবন, অপরাজেয় বাংলা, ডাকসু ভবন এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে দিয়ে ঘুরে রাজু ভাস্কর্যে ফিরে আসে। গতকাল অনশনরতদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর।
পুনর্নির্বাচনের দাবিতে গতকাল চতুর্থ দিনের মতো ঢাবির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন চালিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষার্থী। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদের আশ্বাসে অনশন ভাঙেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর, এজিএস সাদ্দাম হোসাইন প্রমুখ জুস ও পানি খাইয়ে অনশনকারীদের অনশন ভাঙান।

অনশনকারীদের সঙ্গে ভিপি নুরের একাত্মতা : এর আগে জুমার নামাজ শেষে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। এ সময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভিপি নুর বলেন, চারদিন ধরে আমার ভাইবোনেরা এখানে অনশন করছেন। আমি হতাশ হলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সঙ্গে একবারের জন্য কথা বলতেও আসেনি, দেখতেও আসেনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। এখানে আমার কিছু ভাইয়েরা আছেন, যারা গত মঙ্গলবার বিকাল থেকে অনশন করছেন। তাদের দাবি হচ্ছে পুনর্নির্বাচন। আমি তাদের দাবির সঙ্গে অনেক আগেই একমত হয়েছি এবং প্রশাসনকেও বলেছি অনিয়ম হয়েছে সেজন্য পুনর্নির্বাচনের আয়োজন করতে। আমি মনে করি ন্যায্য দাবির কথা একজন বললেও সেটা আমলে নেওয়া উচিত। এতদিন আসতে পারিনি কারণ আমি নিজেও অসুস্থ ছিলাম।

আজ গণভবনে যাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ অনিয়ম ও কারচুপির পরও যারা বিজয়ী হয়েছেন তাদের প্রধানমন্ত্রী চায়ের আমন্ত্রণ করেছেন। আমি যাওয়ার পক্ষে, যেহেতু তিনি ডেকেছেন। আমরা আমাদের সমস্যাগুলোর কথা তার কাছে তুলে ধরব। তবে আন্দোলনকারী ভাইবোনদের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেব।
আপনি ছাত্রলীগে ভিড়ছেনÑ এমন প্রশ্নে নুর বলেন, আমাকে নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা এবং আমার ইমেজকে ক্ষুণœ করার জন্য এক ধরনের প্রচারণা। আমি আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম এখন আমি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নেই। আমি তো এখন একটি সংগঠনের (সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ) সঙ্গেই আছি। তা হলে অন্য রাজনৈতিক দলে আমি কেন যাব। এটা তো প্রশ্নই ওঠে না।

রাতে জুস ও পানি পান করিয়ে অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর পর ঢাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, তোমরা তোমাদের দাবিগুলো দাও, আমরা আলোচনা করি। অভিযোগগুলো দাও পর্যালোচনা করি। ডাকসু নির্বাচন ২৮ বছর পর হয়েছে। ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। তবু ডাকসু নির্বাচনের শুভ সূচনা হোক।
চারদিন ধরে শিক্ষার্থীরা অনশন করছেন প্রশাসনের কেউ কি আসতে পারত নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সামাদ বলেন, শুনেছি প্রক্টর এসেছিলেন। প্রক্টর আসেননি বললে তিনি বলেন, আমরা ব্যথিত দুঃখিত। সমস্যা তো হয়েছে, আমরা তদন্ত করছি। আমি সব সময় টেলিভিশনগুলোতে বলেছি ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হয়েছে। ছাত্ররা ভোট দিতে অভ্যস্ত নয়, শিক্ষকরা দায়িত্ব পালনে অভ্যস্ত নন। কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল বলে এ সময় স্বীকার করেন তিনি।
শিক্ষার্থীরা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এই দাবিটা আমার কাছে ছোট। তোমরা আগে এই দাবি জানাতে পারতে। দাবি জানানো হয়েছিল বললে তিনি বলেন, আমি প্রথম শুনলাম তোমরা এই দাবি করেছো; আমি জানি না। রাতে ব্যালট বাক্স পাঠানোর কথা বললে অধ্যাপক সামাদ বলেন, কিছু হলে শুনেছি ব্যালট বাক্স খুলে দেখিয়ে ভোট গ্রহণ হয়েছে।
অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, তদন্ত রিপোর্ট হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যত ধরনের সহযোগিতা করা দরকার আমরা করব। আমরা চাই না বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হোক।

ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, স্যাররা সমস্যাগুলো শুনেছেন। দেখেন তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন কিনা।

এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, নির্বাচনে এমন কিছু হয়নি, যাতে ফল পাল্টে গেছে। তিনি বলেন, সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আমরা চাই ডাকসু একটি ক্যালেন্ডার ইভেন্টে পরিণত হোক।

২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামে সাড়া নেই : ঢাবির রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ, হল সংসদে পুনর্নির্বাচনসহ চারদফা দাবিতে বৃহস্পতিবার রাতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন হলের ছাত্রীরা। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এ আলটিমেটামে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান হল সংসদে রোকেয়া পরিষদের ভিপি প্রার্থী শেখ মৌসুমী।

শেখ মৌসুমী বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের আলটিমেটামের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রশাসন থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। সাড়ে ১০টার দিকে আমাদের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হবে। তার পর আমরা বসব। তিনি বলেন, আমরা অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রভোস্ট ম্যামকে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তাই আমরা ধরে নিয়েছিলাম আসলেই অনিয়ম হয়েছে। এর সঙ্গে আমাদের দাবিরও অগ্রগতি হবে। তবে এখন পর্যন্ত কিছুই হয়নি। যদি সময় শেষ হওয়ার পরও কোনো অগ্রগতি না দেখি তা হলে হল অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। প্রভোস্টকে ইতোমধ্যে হলে আমরা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

ad

পাঠকের মতামত