টুকরো টুকরো করে দেহ কেটে ভারতীয় সেনাকে ফেরত দিয়েছিল পাকিস্তান
ফিরে এসেছেন অভিনন্দন বর্তমান, ফিরে এসেছিলেন কার্গিল যুদ্ধের যুদ্ধবন্দি মিগ বিমানের পাইলট কম্বম্পতি নচিকেতা। ফিরে এসেছিলেন সৌরভ কালিয়াও। কিন্তু প্রাণ ছিল তাঁর দেহে। জেনেভা চুক্তি ভেঙে ছিন্নভিন্ন করে জাওয়ানের দেহ ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল পাকিস্তান।
২২ বছরের সৌরভ কালিয়া ১৯৯৯ সালের ১৫ মে কর্মরত ছিলেন কার্গিলের কাঁকসরে। এলাকাটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৪ হাজার ফুট উঁচুতে। নাম বজরঙ্গ পোস্ট। একটি জাতীয় সংবাদ সংস্থার সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে অভিনন্দনই পাক বিমান F-16কে ভেঙে নামিয়েছিলেন। সেদিন সোরভই প্রথম রিপোর্ট করেছিলেন‚ সীমানা পেরিয়ে পাকিস্তান অনুপ্রবেশ করছে। আরও কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে এগিয়ে যান পাক সেনাকে আটকাতে। টানা লড়াই চলছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে। একসময় ফুরিয়ে যায় সৌরভদের গোলাবারুদ। সঙ্গে সঙ্গে সৌরভসহ চার জওয়ানকে ঘিরে ধরে পাক সেনার বিশাল দল। জীবন্ত অবস্থায় সৌরভদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় যুদ্ধবন্দি হিসেবে। ফিরে আসেন মৃত এবং ছিন্নভিন্ন হয়ে।
পাকিস্তানের স্কার্দু রেডিওতে সম্প্রচারিত হয়েছিল‚ সৌরভ কালিয়াকে নামে এক ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেনকে পাক সেনা যুদ্ধবন্দি করেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী দেখতে পায়‚ সীমানা পেরিয়ে ভারতীয় সীমায় পাহাড়চূড়া দখল নিয়েছে কয়েক হাজার পাকিস্তানি গেরিলা বাহিনী। রসদ আসছিল পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যদল যখন বজরঙ্গ পোস্টে পৌঁছয় তখন সেখানে সৌরভদের কোনও চিহ্ন ছিল না। পাকিস্তান সেনা ১৯৯৯ সালের ৯ জুন কালিয়ার ছিন্নবিচ্ছিন্ন দেহ ভারতকে ফিরিয়ে দেয়। ময়নাতদন্ত পাওয়া গিয়েছিল ক্যাপ্টেনের দেহ অসংখ্য সিগারেটের ছ্যাঁকায় ভরতি। মিলেছিল কানে গরম লোহার রড ঢোকানোর দাগ। তীক্ষ্ণ কোনও অস্ত্র দিয়ে চোখ উপড়ে নেওয়া হয়েছিল। প্রায় বেশিরভাগ হাড় আর দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।
মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন মিলেছিল। ঠোঁট কেটে ফেলা হয়েছিল। নাক তোবড়ানো, যৌনাঙ্গসহ দেহের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কুচি কুচি করে কেটে ফেলা হয়েছিল। এতেও হয়নি। এত অত্যাচারের পরে গুলি করে হত্যা করা হয় তাঁকে। এই অবস্থাতেই সৌরভের মা বাবা ফেরত পেয়েছিল তাঁদের ছেলেকে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এও দাবি করেছিল‚ প্রতিটা শারীরিক নির্যাতন যুদ্ধবন্দিদের উপর করা হয়েছিল জীবন্ত অবস্থায় । যুদ্ধবন্দিদের উপর পৈশাচিক অত্যাচার করে লঙ্ঘন করা হয়েছিল জেনেভা চুক্তি । কাঁকসারে তাঁর সঙ্গে কর্মরত ছিলেন আরও পাঁচ জওয়ান। সিপাই অর্জুন রাম, ভনওয়ার লাল বাগারিয়া, ভিখা রাম, মূলা রাম ও নরেশ সিং। এঁদেরও নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল পাক সেনা।
পঞ্জাবের অমৃতসরের ছেলে সৌরভের পড়াশোনা হিমাচলের পালাম পুরের ডিএভি স্কুলে। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্তদুর্দান্ত রেজাল্ট, পড়াশোনা শেষ করেন স্কলারশিপ পেয়ে। মেধাবী ছাত্র স্নাতক হওয়ার পরে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিসের পরীক্ষা দিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। জাঠ রেজিমেন্টের চতুর্থ ব্যাটেলিয়নের হয়ে প্রথম পোস্টিংই ছিল কার্গিলের রণক্ষেত্রে। সূত্র- কলকাতা ২৪




