পাক-ভারত পারমাণবিক যুদ্ধে মারা যাবে ২০০ কোটি মানুষ!
চির বৈরী প্রতিবেশী দেশ ভারত-পাকিস্তানের মাঝে যুদ্ধাংদেহী মোনভাব বিরাজ করছে! উদ্বেগ-উৎকষ্ঠায় রয়েছে গোটা বিশ্ব। যুদ্ধ বাধলে ক্ষতি হবে সারা বিশ্বের, এ কথা অনস্বীকার্য বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। পরমাণু শক্তিধর দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বাধলে ২০০ শত কোটি লোক মারা যাবে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশ্ব অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কায় দিনানিপাত করছে।গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আধাসামরিক বাহিনীর উপর জইশ-ই-মুহাম্মদ কর্তৃক হামলায় ৪৪ জন জওয়ান নিহত হওয়ার পর, পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে দুই রাষ্ট্রে মাঝে।
ইতোমধ্যে বেশকিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যুদ্ধের ধামা বাজার খবরে আশঙ্কা করছে। সত্যিই যদি দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র পরমাণু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে? এবং সীমিত পর্যায়েও যদি যুদ্ধ বাধে, তবে প্রত্যক্ষ প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদে ২০০ কোটি মানুষ প্রাণ হারাবে বলে অভিমত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।এছাড়াও বিপন্ন হবে প্রকৃতি। হুমকিতে পড়বে খাদ্যচক্রসহ সমস্ত প্রাণ। ক্ষুধা-দুর্ভিক্ষ আর দীর্ঘতর পরিবেশগত বিপর্যায় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে মানুষ সহ আরসব প্রাণের অস্তিত্বকে।
ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো, রুটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালান রোবোক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের রিক টার্কো ২০০৮ সালে একটি যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে তারা বলেছিলেন, ভারত ও পাকিস্তান যদি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমায় ফেলা বোমার মতো ১৫ কিলোটন ক্ষমতার ৫০টি করে পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করে, তাহলে তাতে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত হবে সাড়ে ৪ কোটি মানুষ।
ওয়েন বি টুন ও তার সহযোগীদের ২০১৩ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারমাণবিক যুদ্ধের পরিণতিতে যে খরা দেখে দেবে তার কারণে যুদ্ধের প্রথম পাঁচ বছর বিশ্বজুড়ে শস্য উৎপাদনের পরিমাণ কমবে প্রায় ২০ শতাংশ। তার পাঁচ বছর পরও শস্য উৎপাদনে হ্রাসের হার হবে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।‘এশিয়া ট্রেডস দ্য নিউক্লিয়ার পাথ, আনওয়্যার দ্যাট সেলফ অ্যাস্যুর্ড ডেস্ট্রাকশন উড রেজাল্ট ফ্রম নিউক্লিয়ার ওয়ার’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনটিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যুদ্ধের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ প্রচণ্ড ঠাণ্ডা, খরা ও খাদ্যাভাবের প্রভাবে প্রাণ হারাতে পারে।
এখানেই শেষ নয়। পারমাণবিক যুদ্ধ, পরিবেশগত বিপর্যয় ও খাদ্যাভাব থেকে সৃষ্ট নতুন যুদ্ধ আরও কোটি কোটি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেবে। বিজয়ী পক্ষকেও পুড়তে হবে ক্ষুধার আগুনে।তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক যুদ্ধের প্রথম পাঁচ বছরে বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাবে ছয় শতাংশ এবং তার পরবর্তী দশ বছরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ চার দশমিক পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত কম থাকবে।
এতে বহু স্থানে দেখা দেবে খরা। মধ্যপ্রাচ্য, উপমহাদেশ এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাস পাবে ২০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। নিম্ন তাপমাত্রার পাশাপাশি খরার কারণেও ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে চরম মাত্রায়।পারমাণবিক যুদ্ধের পর থেকে বায়ুমণ্ডলে চলতে থাকবে অন্য সমীকরণ। স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে জমে থাকা ধোঁয়া দীর্ঘদিন ধরে সূর্যালোকের কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে থাকবে। সেখানকার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
এই উত্তপ্ত ধোঁয়া বিক্রিয়া ঘটাবে ওজনের সঙ্গে। এতে ভেঙে পড়তে থাকবে সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকিয়ে রাখা ওজন গ্যাসের স্তর। বিষুব রেখা অঞ্চলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে ওজন কমে যাবে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।অতিবেগুনি রশ্মির প্রবেশ বাড়বে ৩০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। এই ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাবে স্বাস্থ্যগত জটিলতা প্রকট আকার ধারণ করবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষিও। তাপমাত্রা কমে যাওয়া এবং সেই সূত্রে খরার কারণে জলে-স্থলে প্রাণবৈচিত্রের যতটা না ক্ষতি হতো, অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে তার চেয়ে বহু গুণ বেশি ক্ষতি হবে।
পারমাণবিক যুদ্ধের পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করতে গিয়ে সেই ১৯৮০ ও ১৯৯০- এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার বিজ্ঞানীদের প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা যায়, ওজন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দরুণ অতিবেগুনি রশ্মির প্রকোপ বাড়ায় সামুদ্রিক প্রাণবৈচিত্রের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে উঠতে পারে। অথচ তাদের ওপর ভিত্তি করেই আদতে খাদ্যচক্র গড়ে উঠেছে। অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মাছ মারা গেলে গোটা খাদ্যচক্রেই তার প্রভাব দৃশ্যমান হবে। মানুষ ও অন্যান্য প্রাণির জন্য সৃষ্টি হবে খাদ্য সংকট, অন্ধত্ব ও অস্তিত্বগত হুমকি। সূত্র: বাংলাদেশ টুডে




