১২ টাকার ইনজেকশন ৮০০ টাকা!
মানুষের জীবন বাঁচাতে ঔষধের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর প্রয়োজনের সময়ে হাতের কাছে জরুরী ঔষধ প্রাপ্তিতে বড় ভূমিকা থাকে ফার্মেসির। কিন্তু এই ফার্মেসীই যদি ভোক্তার বা ক্রেতার গলার কাটা হয়ে উঠে, তবে কেমন হয়! সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটেছে পদ্মাপারের জেলা রাজবাড়ীতে।
‘ইফিডিন’ একটি ইনজেকশনের নাম। এই ইনজেকশনের নির্ধারিত সর্বোচ্চ বাজার মূল্য ১২ টাকা। কিন্তু ১২ টাকা মূল্যের এই ইনজেকশন ক্রেতাদের নিকট ৮০০ টাকায় বিক্রয় করে আসছিল রাজবাড়ী সদরের ঢালী ফার্মেসী নামে একটি দোকান। পরে এই দোকান থেকে ঔষধ কিনে প্রতারণার শিকার দুইজন ক্রেতা রাজবাড়ী জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করলে প্রতিষ্ঠানটি এই ফার্মেসীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অতিরিক্ত মূল্যে ঔষধ কিনতে বাধ্য হওয়ার পর রাজবাড়ী জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন মোঃ জাহিদ মন্ডল ও মোঃ আকবর শেখ নামের দুই ক্রেতা। সোমবার বিকেলে রাজবাড়ী সদরের ঢালী ফার্মেসীকে এই জরিমানা করে রাজবাড়ী জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযোগের ৩ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিকার পান ২জন ভোক্তা।
জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার ২ জন অভিযোগকারী নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা বেশী মূল্যে ১২ টাকার ‘‘ইফিডিন’’ নামক ইনজেকশন ৮০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে তারা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানান। সিভিল সার্জন এবং জেলা প্রশাসক স্যারের পরামর্শক্রমে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তদন্ত করে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হয়। এরপর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৪০ ধারায় উক্ত প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
তিনি আরো বলেন, এসময় আদায়কৃত জরিমানার ২৫% জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অভিযোগকারী ২ জন (মোঃ জাহিদ মন্ডল ও মোঃ আকবর শেখ) কে প্রদান করা হয়। অপরদিকে একই ধারায় শেফা ফার্মেসীকে আরো ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে রাজবাড়ী জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সূত্র: নয়া দিগন্ত




