সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামালের মেয়ে কারাগারে
হত্যা মামলার দায়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের বড় মেয়ে বিএনপি নেত্রী চৌধুরী নায়াব ইউসুফকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. হেলাল উদ্দিন তার জামিন নামঞ্জুর করেন। পরে বিকাল পৌনে ৫টার দিকে চৌধুরী নায়াব ইউসুফকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রচার প্রচারণার দ্বিতীয়দিন নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ বেপারী ওরফে জামালকে (৪০) বিএনপির কর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সোহরাব বেপারী বাদী হয়ে ৩৮ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার ৩৭ নম্বর আসামি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ গত ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে ৪ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। পরে রোববার দুপুরে স্থায়ী জামিনের জন্য জেলা জজ আদালতে তিনি হাজির হন।
জেলা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহিদুল্লাহ জাহাঙ্গির, অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া, অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নান্নুসহ ২০ জন আইনজীবী চৌধুরী নায়াব ইউসুফের পক্ষে জামিন শুনানিতে অংশ নেন। সরকার পক্ষে ছিলেন এপিপি অ্যাডভোকেট জাহিদ বেপারী, অ্যাডভোকেট অনিমেষ রায়, লক্ষন সাহা প্রমুখ।শুনানি শেষে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে চৌধুরী নায়াব ইউসুফকে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
শুনানির সময় আদালত প্রাঙ্গণে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ছাড়াও ফরিদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম, শহর বিএনপির সভাপতি রেজাউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মিরাজ, কোতয়ালী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান চৌধুরী রঞ্জন, ফরিদপুর মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েস, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শাহরিয়ার শিথীলসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহিদুল্লাহ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমরা ২০ জন আইনজীবী চৌধুরী নায়াব ইউসুফের পক্ষে জামিন শুনানিতে অংশ নিয়েছিলাম। এসময় বিচারকের কাছে জামিন প্রার্থনা করে আমরা জানাই, মামলার এজাহারে চৌধুরী নায়াব ইউসুফের নাম যুক্ত করা হলেও তিনি ঘটনার সময় সেখানে ছিলেন না।’
এছাড়া নিহতের ইনজুরি রিপোর্টেও আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। তাই এটি আদৌ হত্যা মামলা কিনা সেটিই বিচার্য বিষয় বলেও দাবি করেন ওই আইনজীবী।জবাবে সরকার পক্ষের আইনজীবী গণ জামিনের বিরোধীতা করে বলেন, ‘এজাহার অনুযায়ী তিনি সরাসরি এই মামলায় সম্পৃক্ত না হলেও তার হুকুমেই এই ঘটনা ঘটে। উচিত ছিল তাকে প্রধান আসামি করা।




