পাকিস্তানের কাছে এফ-১৬ ব্যবহারের তথ্য চাইল আমেরিকা
আমেরিকার তৈরি করা অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-১৬ ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাস দমন ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারবেনা এই শর্তে পাকিস্তানকে এফ-১৬ বিক্রি করেছিল আমেরিকা সংস্থা লকহিড মার্টিন। কিন্তু ভারদের দাবি, এফ-১৬ বিমানকেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে নামিয়েছিল অভিনন্দের মিগ বাইসন-২১। তবে এফ-১৬ ব্যবহারের প্রমাণ হিসেবে আমরাম ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরা ও হাজির করেছে ভারতীয় বায়ূসেনা কাছে।
শনিবার (২ মার্চ) বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের কাছে আরও তথ্য চেয়েছে আমেরিকা। বৃহস্পতিবারই ভারতীয় বায়ুসেনার পক্ষ থেকে ‘আমরাম’-এর অংশবিশেষ সামনে আনা হয়। যা থেকে এটুকু সাফ প্রমাণ হয় যে, বালাকোটে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী হানার পরদিন দু’দেশের আকশে যে সামরিক রেষারেষি হয়, সেই সময় পাকিস্তান তাদের হাতে থাকা মার্কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুত করা এফ-১৬ যুদ্ধবিমানই ব্যবহার করেছিল।
এদিকে সংবাদসংস্থা পিটিআইকে আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র জানান, আমাদের কাছে এই রিপোর্টটি এসেছে। আপাতত এই সংক্রান্ত আরও অনেক তথ্য সংগ্রহ করছি আমরা। পাকিস্তান এই এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান ব্যবহার করে কোনও চুক্তিভঙ্গ করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এই কথা জানান স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র।
প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন অত্যাধুনিক পণ্যের বিশ্বব্যাপী সবথেকে বড় বিক্রেতা হল আমেরিকা। কিন্তু, সেই অস্ত্রগুলি ঠিক কোন পরিস্থিতিতে কখন কার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে, সেই ব্যাপারে তাদের অতি স্পষ্ট নির্দেশিকা আছে। যা, আদতে অত্যন্ত কঠোর। সেই নির্দেশিকা না মেনে কোনও দেশ যদি তাদের থেকে ক্রয় করা প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কোনও পণ্যের ব্যবহার করে, তবে সেই বিষয়ে কোন পথে এগোবে আমেরিকা, তার সিদ্ধান্তও তাদেরই।
যদিও, বুধবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের পক্ষ এফ-১৬ ব্যবহার করার তথ্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছে পাকিস্তান। শুধু তাই নয়, তাদের একটি যুদ্ধবিমানকে যে ভারত ধ্বংস করে দিয়েছে, সে কথাও পুরোপুরি অস্বীকার করে ইমরান খানের দেশ। প্রসঙ্গত, এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাকিস্তানকে দেওয়ার সময় আমেরিকা অন্তত এক ডজন নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা মানা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পর এই ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেবে তারা, তা আজানবে ওয়াশিংটন।




