269496

পাকিস্তানের মাটিতে পড়ে আনন্দে স্লোগান দেন আটক পাইলট!

পাকিস্তানের গুলিতে ভূপাতিত ভারতীয় যুদ্ধবিমানের পাইলট পাকিস্তান সীমারেখার এক কিলোমিটার ভেতরে এসে পড়ার পর আনন্দে ভারতের স্লোগান দেন। তিনি ভেবেছিলেন, তিনি ভারতের মধ্যেই অবস্থান করছেন।অভিনন্দন নামের এই পাইলটকে আটকের আদ্যোপান্ত তুলে ধরেছে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন।তারা সেখানকার বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ রাজ্জাক চৌধুরী (৫৮) নামের এক ব্যক্তির বর্ণনা তুলে ধরেছে।রাজনৈতিক ও সমাজকর্মী রাজ্জাক নিয়ন্ত্রণরেখার সাত কিলোমিটার ভেতরে আজাদ কাশ্মিরের ভিমবার জেলার হোরান গ্রামের বাসিন্দা।

তিনি জানান, বুধবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে তিনি তার বাড়ির আঙিনায় ছিলেন। এসময় আকাশে তিনি ধোঁয়া দেখতে পান। তিনি ভালোভাবে তাকাতেই দুটি বিমানে আগুন লাগা দেখতে পান।একটি বিমানের আরোহী নিয়ন্ত্রণ রেখা পার হয়ে চলে যান। আরকেটিতে আগুন লেগে দ্রুত নিচে নামতে থাকে।তার বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এ সময় তিনি প্যারাস্যুট নিয়ে একজনকে দক্ষিণ দিকে নামতে দেখেন।পাইলট দ্রুত একটি পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং কিছু কাগজ ও মানচিত্র গিলে ফেলেন। ওই পাইলট প্যারাসুটে নামার সময় নিরাপদ ও সুস্থ ছিলেন।

এ সময় রাজ্জাক কিছু তরুণদের ডেকে পাঠান এবং তাদের বলেন, পাকিস্তানি সৈন্যরা না আসা পর্যন্ত তোমরা ওই বিধ্বস্ত বিমানের কাছে যেও না। তবে তোমরা ওই পাইলটকে আটক করো।ওই তরুণরা পাইলটের কাছে গেলে পাইলট (অভিনন্দন) তাদের জিজ্ঞেস করেন, এটা কি ভারত না পাকিস্তান? এসময় পাইলটের কাছে একটি পিস্তল ছিল।তরুণরা একটু বুদ্ধি খাটিয়ে তাকে বলে, এটা ভারত। এ কথা শুনেই আনন্দে তিনি ভারতের স্লোগান দিতে থাকেন।

এরপর পাইলট অভিনন্দন ওই তরুণদের আবারও জিজ্ঞেস করেন, এটা ভারতের কোন স্থান। তখন ওই একই তরুণ বলেন, এই স্থানের নাম কিলান।তখন পাইলট নিজেকে আহত বলে জানান এবং তাদের কাছে পানি পান করতে চান।এসময় কিছু আবেগপ্রবণ তরুণ পাকিস্তান সেনাবাহিনী নামে স্লোগান দেন। তাদের স্লোগানে অভিনন্দন পিস্তল বের করেন। তখন ওই তরুণেরা পাথর হাতে তুলে নেন।অভিনন্দন দৌড়ে প্রায় আধা কিলোমিটার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে যে তরুণেরা তাড়া করছিলেন, তাদের দিকে পিস্তল তাক করে শূন্যে গুলি ছোড়েন অভিনন্দন। পরে তিনি পুকুরে ঝাঁপ দেন।

তরুণরা তাকে অস্ত্র ফেলে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। এ সময় এক তরুণ তার পায়ে আঘাত করেন।পরে এই বৈমানিক তাকে মেরে না ফেলার আহ্বান জানান। কয়েক তরুণ তার দুই হাত ধরে ফেলেন। কয়েকজন তার ওপর চড়াও হন। কয়েকজন তাদের থামানোর চেষ্টা করেন।এ সময় পাকিস্তানের সেনারা চলে আসে এবং তাকে তাদের হেফাজতে নেয়।

ad

পাঠকের মতামত