268796

বরগুনায় ঝড়ে ১৬টি ট্রলারডুবি, দুই শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত

কালবৈশাখী ঝড়ে বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের পায়রা নদীর মোহনায় ডুবে গেছে ১৬টি মাছ ধরা ট্রলার।৩০টি ইটভাটার এক কোটি কাটা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলেজসহ দুই শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তরমুজসহ রবিশস্য ক্ষেতের। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ও তার ছিঁড়ে ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল বন্ধ।সোম ও মঙ্গলবারের কালবৈশাখী ঝড়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

জানা গেছে, সোমবার সকাল ৬টার দিকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে আমতলী ও তালতলী উপজেলায়। ২০ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। ঝড়ের সঙ্গে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কালবৈশাখী ঝড় থেমে গেলেও প্রায় দুই ঘণ্টা চলে মুষলধারে বজ্রবৃষ্টি।এতে বঙ্গোপসাগরের পায়রা নদীর মোহনায় ১৬টি মাছ ধরা ট্রলার ডুবে যায়। তবে সব ট্রলার স্থানীয়রা উদ্ধার করেছে বলে জানান সোনাকাটা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আলমগীর হাওলাদার।

দুই উপজেলায় ৩০টি ইটভাটায় প্রায় এক কোটি কাঁচা ইট পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান আমতলী পৌরসভার সাবেক মেয়র ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল আহসান নান্নু।অপর দিকে উত্তর পশ্চিম চিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বকুলনেছা মহিলা কলেজের আশিংক ক্ষতিসহ দুই শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রচণ্ড বৃষ্টিতে তরমুজসহ রবিশস্য ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে বলে জানান কৃষকরা।বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ছিঁড়ে যাওয়ার সোমবার সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

মঙ্গলবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আমতলী পৌর শহরের বাসুগী গ্রামের শাহজাহান মিয়া ও মাসুদ মীর,বাধঘাট চৌরাস্তায় শহিদ মিয়া, হলদিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম স্বপন, ছুরিকাটা গ্রামের হায়াতুজ্জামান মিরাজ, খালেদা খানম, গোজখালী গ্রামের আল আমিন খলিফার ঘরসহ পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দুই শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ইটভাটির কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়েছে।

চাওড়া কাউনিয়া গ্রামের জিয়া উদ্দিন জুয়েল জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে অনেক গাছপালা ভেঙে গেছে। রবি ফসলের কিছু ক্ষতি হয়েছে।আমতলী পৌর শহরের বাসুগী গ্রামের শাহজাহান মিয়া জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে তার ঘরটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালিবাড়ী এলাকার আইএসএসবি ইটভাটার পরিচালক মো. ফারুক গাজী জানান, বৃষ্টিতে আট লাখ কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে।আমতলী পৌরসভার সাবেক মেয়র ইটভাটার মালিক সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল আহসান নান্নু জানান, বৈশাখী ঝড়ে প্রায় এক কোটি কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম বদরুল আলম বলেন, এখনও তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে আরও বৃষ্টিপাত হলে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতির প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ad

পাঠকের মতামত