অভিমানী স্ত্রীর খোঁজে বোরকা পরে বাড়িতে বাড়িতে স্বামী!
অভিমানী স্ত্রীকে খুঁজতে বোরকা পরে বাড়িতে বাড়িতে খুঁজে চলেছে এক স্বামী। অবশেষে সন্ধানকালে গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে এখন শ্রীঘরে সেই বৌ-পাগল স্বামী। শিবচর থানায় মামলা দায়েরের পর রবিবার দুপুরে হারুন মুন্সী নামের ওই ব্যক্তিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এতকিছুর পরও স্ত্রীর সন্ধান পাননি হারুন।শিবচর থানা ও আটক হারুনের সাথে আলাপকালে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের চরঘুনচি গ্রামের ছালাম মুন্সীর একমাত্র ছেলে হারুন মুন্সীর সাথে প্রায় ২০ বছর আগে বাকপ্রতিবন্ধী স্ত্রীর সুসম্পর্ক হয়।
একবছর পর শান্তি (ছদ্ম নাম) নামের ওই গৃহবধূর ভাগ্নির সাথে বিয়ে হয় হারুনের। কিন্তু বিয়ে করা বৌ এর চেয়ে তার খালা শান্তির উপরই টান বেশি ছিল হারুনের। ফলে বিয়ের এক বছরের মাথায় হারুনের সংসার ভেঙ্গে যায়। এর পরের বছর ২ সন্তানের জননী শান্তিকে নিয়ে ঘর ছাড়ে হারুন। মুন্সীগঞ্জে গিয়ে ঘর বাধে তারা। মা বাবার একমাত্র ছেলের এই বিয়ে মেনে না নিলে রংমিস্ত্রীর কাজ করেই চলতো হারুনের সংসার। ২০১২ সালে মা বাবার কথা ও মায়ের করা মামলায় কারাবাসের কারণে শান্তিকে ডিভোর্স দেয় হারুন। এরপর ৬ মাসের মধ্যে আরেক নারীর সাথে বিয়ে হয় হারুনের। কিন্তু এই সংসারও বেশিদিন টেকেনি। আবারো শান্তির কাছে ফিরে গিয়ে হাতে পায়ে ধরে বিয়ে করে হারুন। মুন্সীগঞ্জে রংয়ের কাজ করে চলছিল সংসার।
এরই মাঝে গত বছর শান্তির ছেলে বিদেশে যায় ও মেয়েরও বিয়ে হয় শিবচর। ছেলের বিদেশ গমন ও মেয়ের বিয়ের পরই বাধে বিপত্তি। ৬ মাস আগে মুন্সীগঞ্জ ছেড়ে গা ঢাকা দেয় শান্তি বেগম (৪৫)। মোবাইলে কথা বলে এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করেও শান্তিকে না পেয়ে হারুন হয়ে যায় পাগলপ্রায়। সাথে ছিল শান্তির পরিবারের হুমকি ধামকি। হারুন জানতে পারে শান্তি শিবচরেই অবস্থান করছে। শান্তিকে খুঁজতে হারুন সিদ্ধান্ত নেয় বোরখা পড়ে শিবচরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খুঁজবে।
এর পর তিনি বোরখা ম্যানেজ করে শিবচর পৌরসভার হেলিপ্যাড এলাকায় এসে ঘরে ঘরে ঢুকেই মহিলা কণ্ঠে খোঁজা শুরু করেন স্ত্রীকে। ৭/৮টি ঘর খোঁজার পর মহিলাদের বিষয়টি সন্দেহ হলে তাকে চ্যালেঞ্জ করলে বের হয় মুখোশধারী হারুনের আসল রুপ। কিন্তু বৌ পাগল স্বামীর বৌ ভাগ্য না হলেও জুটে গণপিটুনী। একপর্যায়ে এলাকাবাসী থানায় খবর দিলে এসআই খলিলুর রহমান ও এএসআই মোঃ হাসানের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ হারুনকে (৪০) আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে বের হয়ে আসে বৌ পাগল হারুনের কাহিনী। তার কাছ থেকে শান্তির সাথে তার নিকাহনামাও পাওয়া যায়।
বৌ পাগল স্বামী মোঃ হারুন মুন্সী বলেন, আমার বড় বৌ দেখতে কালো হলেও ও আমার অনেক যত্ন নেয়, ভালোবাসে। ওর ছেলে বিদেশ যাওয়া ও মেয়ের বিবাহ দেয়ার পর ও পাল্টাইয়া গেছে। ৬ মাস ধইরা আমার ফোনও ধরে না। তাই বোরখা পইরা মহিলা সাইজা খুঁজতে আইছি। যাতে ও আমারে দেইখা না পালাইয়া যায়। আমি কাউরেতো বিরক্ত করি নাই। বোরখা পড়ে মহিলা কণ্ঠে খুঁজতেছিলাম। সারাদিন খুঁজলে ঠিকই পাইতাম। তারা আমারে দিল না খুঁজতে। ছেলেদের জুতা পড়ায় ও কণ্ঠের কারণে ধরা খেলাম। ওরে ছাড়া আমার একটুও ভালো লাগে না। পুলিশরে আমারে ছাড়তে বলে দেন।
শিবচর থানার ওসি মোঃ জাকির হোসেন বলেন, ছদ্মবেশে হারুন ওই এলাকায় ঘরে ঘরে প্রবেশ করে। এলাকাবাঈ ওকে ধরে আমাদের কাছে দিয়েছে। সে বৌকে খুঁজছে বলছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।




